চোখে ফলস আইল্যাশ বা কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহারের বিধান নিয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে চোখের পাপড়ি উঠে গেলে কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার করা জায়েজ। তবে এ ক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে—কৃত্রিম পাপড়ি যেন অজুর পানি ত্বক পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা না হয় এবং অজুর সময় তা খুলে রেখে অজু করা যায়।

যে প্রশ্নে দ্বিমত

স্বাভাবিক সুন্দর নখ ও পাপড়ি আছে এমন কোনো নারী শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার করতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কোনো কোনো আলেমের মতে, কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহার নারীদের অন্যান্য অলংকার পরিধানের মতোই, তাই এটি জায়েজ।

অন্যদিকে অনেক আলেম কৃত্রিম নখ ও পাপড়ি ব্যবহারকে নাজায়েজ বলেছেন। তাঁদের যুক্তি, এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং ‘আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন’ হিসেবে গণ্য। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম পাপড়ি ব্যবহার পরচুলা ব্যবহারের সমান।

হাদিসে যা এসেছে

এই আলেমদের বক্তব্য অনুযায়ী, আল্লাহর রাসুল (সা.) পরচুলা পরতে নিষেধ করেছেন। রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা সেইসব নারীদের লানত করেন, যাঁরা নিজেরা পরচুলা পরেন বা অন্যকে পরান, আর যাঁরা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি অঙ্কন করেন বা করান। (সহিহ বুখারি: ৫৯৩৩)

অন্য একটি হাদিসে রাসুল (সা.) ভ্রু উপড়ে ফেলা, দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন রূপচর্চাকে আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি হিসেবে গণ্য করেছেন। রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ ওইসব নারীকে লানত করেছেন, যাঁরা উল্কি অঙ্কন করেন বা করান, যাঁরা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু উপড়ে ফেলেন এবং দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করেন; তাঁরা আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি ঘটিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ৪৮৮৬)

পরামর্শ

এসব বক্তব্যের পরেও কেউ কেউ জায়েজ বললেও মুসলিম পরহেজগার নারীদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—আল্লাহ প্রদত্ত স্বাভাবিক সৌন্দর্যে সন্তুষ্ট থাকা এবং সাধারণ রূপচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। এই ধরনের ক্ষতিকর অতিরিক্ত রূপচর্চা থেকে দূরে থাকাই কল্যাণকর বলে মত দেওয়া হয়েছে।

Source: জাগো নিউজ২৪