ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে ভেবে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে শুরু করেছিলেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার শাদাব খান। সম্প্রচারেও তখন ঘোষণা করা হচ্ছিল, ২০ রানে জিতে গেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু আলট্রাএজে ব্যাটে বলের সামান্য স্পাইক ধরা পড়ার পর পুরো চিত্র বদলে যায়। নতুন জীবন ফিরে পাওয়া শাদাব শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দেন।
পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে রোববার লাহোরে এ নাটকীয় ঘটনা ঘটে। ম্যাচের শেষ দিকে শাদাবকে এলবিডব্লিউ আউট দেওয়ার পর মনে হচ্ছিল, ২০ রানে জিতে গেছে ইংল্যান্ড। দুই দলের খেলোয়াড়েরা পরস্পরের সঙ্গে হাতও মেলান। এমনকি সম্প্রচারেও ইংল্যান্ডের জয়ের খবর দেখানো হয়। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারের পর্যালোচনায় দেখা যায়, বলটি শাদাবের ব্যাটে সামান্য স্পর্শ করেছিল। এতে বদলে যায় ম্যাচের পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত শাদাবের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয় পায় পাকিস্তান।
ওই সময় পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২১ রান। গাস অ্যাটকিনসনের আবেদনে মাঠের আম্পায়ার আঙুল তুলে শাদাবকে এলবিডব্লিউ আউট ঘোষণা করেন। সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে শাদাব ব্যাট মাটিতে আছড়ে মারেন এবং ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে শুরু করেন। তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছিল, তিনিও আউটের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।
তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আলট্রাএজে দেখা যায়, বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সামান্য স্পাইক তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, বল ব্যাটে লেগেছিল। তৃতীয় আম্পায়ারের পর্যালোচনায় মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যায়। নতুন জীবন ফিরে পান শাদাব, ম্যাচেও ফিরে আসে উত্তেজনা।
কখন রিভিউ নিলেন শাদাব?
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। অনেক সমর্থকের প্রশ্ন ছিল, শাদাব কখন রিভিউ নিলেন। মাঠের আম্পায়ার আঙুল তোলার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়েছিল, আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো সংশয় নেই। প্রথমে সম্প্রচারিত দৃশ্যেও তাঁকে রিভিউ নেওয়ার সংকেত দিতে দেখা যায়নি। তবে পরে প্রকাশিত আরেকটি ক্যামেরা অ্যাঙ্গলে দেখা যায়, পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার রিভিউ চেয়েছিলেন। পাকিস্তানের হাতে তখন একটি রিভিউ বাকি ছিল। নিজের আউট হওয়ার বিষয়ে শাদাবের খুব বেশি আশা না থাকলেও সেই শেষ সুযোগটি কাজে লাগান তিনি। আর তাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
৯ উইকেট হারিয়েও অবিশ্বাস্য জয়
শাদাবের লড়াই অবশ্য শুধু ডিআরএসের নাটকীয়তায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ৯ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের স্কোর যখন ১৫৪, তখন ইংল্যান্ডের জয় অনেকটাই নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি শাদাব। শেষ উইকেটে হারিস রউফকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।
৯৬ বলে ১১৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন শাদাব। অন্যদিকে হারিস রউফ ১৯ বলে করেন ৭ রান। সংখ্যার হিসাবে হারিসের ইনিংসটি বড় না হলেও কঠিন পরিস্থিতিতে শাদাবের সঙ্গে তাঁর জুটি পাকিস্তানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে শাদাবের হাতে।
‘হারিসের কৃতিত্ব বেশি প্রাপ্য’
পুরস্কার নেওয়ার পর নিজের ইনিংস নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন শাদাব। তবে কৃতিত্বের বড় অংশ দিয়েছেন সতীর্থ হারিসকে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, দল জিতলেই একটা ইনিংস উপভোগ করা যায়। তাই আমি খুব খুশি যে এমন ইনিংস খেলেছি এবং আমরা ম্যাচ জিতেছি। আমার চেয়ে হারিসের কৃতিত্ব বেশি প্রাপ্য বলে মনে করি। কারণ, ওই অবস্থানে ব্যাট করতে নামা টেলএন্ডাররা সাধারণত ছক্কা মারতে চায়। আমি যেভাবে তাকে পথ দেখাচ্ছিলাম, কিংবা সে যেভাবে আমাকে সাহায্য করছিল, তাতে আমরা ভালো একটা জুটি গড়তে পেরেছি।’
পাকিস্তান যখন ৯ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে শাদাব জানান, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। আগের সিরিজে ফিরে আসার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ইনিংসে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছিলাম, কিন্তু ম্যাচ জেতাতে পারিনি। তাই এবার লক্ষ্য ছিল বিশ্বাস ধরে রাখা।’
ম্যাচের পরিস্থিতি ও কন্ডিশনও তাঁদের পক্ষে ছিল বলে মনে করেন শাদাব। তাঁর ভাষায়, ‘আজ কন্ডিশন কিছুটা আলাদা ছিল, কারণ শিশির পড়ছিল। আগের ম্যাচে যা হয়েছিল, তাতে আমার মনে হয়েছে, তাদের বোলাররাও কিছুটা চাপে ছিল। আমরা যদি তাদের চাপে ফেলতে পারি, তাহলে তারা এমন জায়গায় বল করতে পারে, যা আমার ব্যাটিংয়ের জন্য সুবিধাজনক।’
Source: জাগো নিউজ২৪






