টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই সাম্প্রতিক সময়টা ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। জাপানে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হওয়া এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট থেকে খালি হাতে ফিরেছে দল। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে তিন জাতি ওয়ানডে আসরেও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে আফগানিস্তানের কাছে ৯৯ রানে এবং জিম্বাবুয়ের কাছে ৭ উইকেটে হার মানে বাংলাদেশ।

সামনে টেস্ট সিরিজ

এবার সামনে টেস্ট সিরিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলতে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পরিসংখ্যান বলছে, নিকট অতীত ও সাম্প্রতিক সময়ে একমাত্র টেস্ট ফরম্যাটেই বাংলাদেশ ভালো খেলছে। যদিও সর্বশেষ টেস্টে আফগানিস্তানকে বাগে পেয়েও জয় আসেনি। এই অক্টোবরের প্রথম ভাগে আবুধাবিতে শান্তর দলের ছুড়ে দেওয়া ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ ড্র করেছে আফগানিস্তান।

অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে সফরের হিসাব

তার আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে অজিদের ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় সফরকারীরা। তবে দ্বিতীয় টেস্টে অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি—ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারায় অস্ট্রেলিয়া। এর আগে এ বছরের জুনে জিম্বাবুয়ের মাটিতেও শেষ রক্ষা হয়নি; একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে টিম বাংলাদেশকে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সাফল্য

তবে তার আগে এ বছরের মে মাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটে ৭৮ রানে ও মিরপুরে ১০৪ রানে জিতে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে শান্তর দল।

ফাইনালে যেতে তিন মিশন

এখন এই অক্টোবর-নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে জিতলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে থাকবে। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আরও একটি দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিততে হবে। আর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ২০২৭ সালের সিরিজে পরাজয় এড়িয়ে ড্র করে দেশে ফিরতে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। টাইগাররা সেখানে পৌঁছাতে পারুক বা না পারুক, সম্ভাবনাটা অন্তত থাকবে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে হোম টেস্ট সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০২৭ সালের সিরিজ—এই তিনটি মিশনই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শুরু ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে

এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনের শুরু ক্যারিবীয়দের সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজ দিয়ে। আগামী পরশু, ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে সেই চ্যালেঞ্জিং মিশন।

মিশনের আগে সাম্প্রতিক সাফল্যগুলো যেমন আশার আলো ছড়াচ্ছে, তেমনি কারও কারও মনে দুশ্চিন্তাও তৈরি করছে। কারণ ইতিহাস বলছে, সর্বশেষ ক্যারিবীয়রা যখন বাংলাদেশে খেলতে এসেছিল, সেটিও ছিল দুই ম্যাচের সিরিজ। সেই সিরিজের দুই টেস্টেই জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ—চট্টগ্রামে ৩ উইকেটে এবং ঢাকার মিরপুরে ১৭ রানে।

সামর্থ্য আছে, প্রমাণ দিতে হবে

তবে পাঁচ বছর আগে না পারলেও এবার বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্টে হারাতে পারবে না, এমনটা বলার উপায় নেই। শান্ত, তানজিদ তামিম, সাদমান, মুমিনুল, হৃদয়, মিরাজ ও তাইজুলদের মধ্যে হারানোর সেই সামর্থ্য আছে। সেই সামর্থ্যের প্রমাণ জায়গামতো দিতে হবে।

পারতে হলে সবার আগে মূল দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে ব্যাটারদের। ব্যাটাররা ভালো করতে পারলে বোলাররা পাবেন লড়ার পুঁজি। সেই পুঁজিকে অবলম্বন করে বোলাররাও নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিতে পারবেন। কারণ বোলিংয়ের ওপর আলাদা ভরসা রাখা যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগামী পরশু, ২৮ অক্টোবর থেকে মিরপুরে শুরু প্রথম টেস্ট। এখন সবকিছু নির্ভর করছে সবার কাজটা ঠিকঠাক করার ওপরই।

Source: জাগো নিউজ২৪