সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর শুরু হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার। ১৭ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আসর। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই টিকিটের মূল্য, ভারতের দল নির্বাচন এবং মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

এবারের সাফে নেপাল ফিফার নিষেধাজ্ঞায় না থাকায় অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল। ‘বি’ গ্রুপে পাকিস্তান ও মালদ্বীপের সঙ্গে খেলবে ভারত। কিন্তু ঢাকায় ভারতের মূল জাতীয় দল আসবে, নাকি যুব দল—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারত। ফলে দেশটির প্রধান দলের ওই দুই ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। এ কারণে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার বাফুফে ভবনে বাফুফের কম্পিটিশন কমিটি ও সাফের একটি সমন্বয় সভা হয়েছে। সভা শেষে সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। তিনি বলেছেন, ‘ভারত আসবে। যেহেতু এটি একটি টায়ার-১ প্রতিযোগিতা, তাই তারা যে দল পাঠাবে, আমাদের ধরে নিতে হবে সেটাই ভারতের প্রথম দল।’ অর্থাৎ ভারতের কোন দল খেলবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

ভারত তুলনামূলক দুর্বল দল পাঠালে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। হামজা চৌধুরী ও শামিত সোমদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশকে এবার অন্যতম ফেভারিট ধরা হচ্ছে। তবে ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হামজাকে পাওয়া যাবে না। ম্যাচটি ফিফা উইন্ডোর বাইরে হওয়ায় ক্লাব থেকে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।

মাঠের বাইরেও আলোচনার কেন্দ্রে টিকিটের মূল্য। সাফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুটি ম্যাচের জন্য ডে পাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচের হিসাবে ৫০০ টাকা। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা। তবে সর্বনিম্ন এই মূল্য নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বাফুফের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, দামটি দর্শকদের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। টিকিটের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব সাফের বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ক্যাটেল অবশ্য গ্যালারি পূর্ণ থাকার আশা করছেন। বিদেশি সমর্থকদের বাংলাদেশে আসার সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট সদস্য সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ভিসার সমর্থনে চিঠি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশ ও বহির্গমনপথ, ভিআইপি গেট এবং দর্শকদের নির্বিঘ্নে প্রবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলগুলোর অনুশীলনের জন্য পুলিশ মাঠ, বুয়েট মাঠ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন মাঠ এবং কিংস অ্যারেনার বাইরের অনুশীলন মাঠসহ কয়েকটি ভেন্যু বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী দিনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। ফাইনালে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। বাফুফে জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে সামনে নিয়মিত সভা হবে।

এখন দেখার বিষয়, মাঠের প্রস্তুতি ও আয়োজনের মানের পাশাপাশি টিকিটের দাম এবং ভারতের দল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাফ উপহার দিতে পারে আয়োজকেরা।

Source: জাগো নিউজ২৪