প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতার পরও থেমে থাকতে চান না হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইতিমধ্যেই পরের বছরের এই পুরস্কার জয়ের কথা ভাবছেন এবং নিজের উন্নতি অব্যাহত রাখলে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি আবারও জেতা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
সোমবার লন্ডনের প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসরে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন সাবেক ব্রাজিলীয় তারকা রোনালদো। কেইনের নাম উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৭৩ গোল করেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে জিতেছেন দুটি ট্রফি এবং বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে গেছেন। এসব অর্জনের স্বীকৃতিতেই তাঁর হাতে ওঠে এই পুরস্কার।
পুরস্কারের দৌড়ে কেইন পেছনে ফেলেছেন কিলিয়ান এমবাপে ও লামিনে ইয়ামালকে। এর মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন তিনি। সব মিলিয়ে এই পুরস্কার জেতা পঞ্চম ইংরেজ ফুটবলার কেইন। এর আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন স্ট্যানলি ম্যাথিউস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও ওয়েন।
পুরস্কার পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কেইন বলেছেন, তাঁর হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল এবং তিনি অপেক্ষা করছিলেন কখন রোনালদো তাঁর নাম বলবেন। রোনালদো তাঁর বেড়ে ওঠার সময়ের অন্যতম আদর্শ ছিলেন উল্লেখ করে কেইন বলেন, তাঁর হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া স্বপ্ন পূরণের মতো।
তবে কেবল স্বপ্নপূরণ নয়, এই অর্জনকে নিজের কল্পনারও বাইরে বলে মনে করছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর ভাষায়, অনুভূতিটি অসাধারণ এবং উপস্থিত বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে এই মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পারাটা বিশেষ কিছু। তিনি বলেন, এটিকে স্বপ্নপূরণ বলা যায়, তবে এটি তাঁর কল্পনারও বাইরে।
কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের ফসল এই ব্যালন ডি’অরের পেছনে নিজের চিকিৎসক আলেহান্দ্রো এলোরিয়াগা ক্লারাকোর অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন কেইন। তাঁর মতে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার জন্য মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শারীরিক প্রস্তুতি ও ব্যক্তিজীবনের নানা ত্যাগও গুরুত্বপূর্ণ।
কেইন জানান, চিকিৎসার কক্ষে, ট্রিটমেন্ট টেবিলে, কখনো সূচ নিয়ে—চিকিৎসকের সঙ্গে তাঁর অনেক সময় কাটে। এর সঙ্গে যুক্ত আছে নানা ত্যাগ, সনা ও বরফজলে শরীর ডুবিয়ে রাখার মতো প্রস্তুতি। এই সময়টা তিনি সন্তান, পরিবার ও স্ত্রীর সঙ্গে কাটাতে চাইতেন, তবে এসবও নিবেদনের অংশ।
তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকতে হলে কিছু সময় ও কিছু বিষয় ত্যাগ করতে হয়। তাই এই ট্রফি তাঁর জীবনের সঙ্গে যুক্ত সবার সেই ত্যাগের পুরস্কার।
নিজের বর্তমান সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে কেইন উল্লেখ করেছেন, এখনো কিশোর বয়সের মতো নিজেকে প্রমাণ করার তাড়না কাজ করে। তিনি বলেন, তিনি যেভাবে অনুশীলন করেন এবং খেলেন, তখন সব সময় মনে হয় তাঁর বয়স ১৫-১৬ বছর এবং নিজেকে প্রমাণ করার কিছু আছে। এই মানসিকতাই তাঁকে ব্যালন ডি’অর জিততে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে এখানেই থামতে চান না কেইন। তিনি বলেন, এই পুরস্কার জেতার পরও তিনি ভাবছেন কীভাবে আরও ভালো করা যায় এবং আবারও এটি জেতা যায় কি না। অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন পর্যন্ত তাঁর এই মানসিকতা এমনই থাকবে বলে জানান ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
ব্যালন ডি’অরের আনন্দ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইলেও দীর্ঘ রাতের উৎসবের পরিকল্পনা নেই কেইনের। মঙ্গলবার সকালে মিউনিখে ফেরার ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল তাঁর। এরপর বিকেলে বায়ার্নের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা, কারণ বুধবার ডিএফবি-পোকালে ম্যাগডেবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে দলটির।
ইংল্যান্ডে ফিরে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা অ্যালান শিয়েরারের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নিয়েও কেইনকে প্রশ্ন করা হয়। তবে আপাতত ইংল্যান্ডে ফেরার কথা ভাবছেন না তিনি। কেইনের ভাষায়, ‘এখনই নয়। বায়ার্নে আমি জীবনটা উপভোগ করছি।’
ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় পর্যায়েও আরও অনেক কিছু অর্জন করতে চান কেইন। তাঁর লক্ষ্য, বায়ার্নের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা এবং ইংল্যান্ডের হয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়। তাঁর মতে, লন্ডনে এই পুরস্কার জেতা তাঁর জন্য ভালো লক্ষণ।
কেইন বলেন, ইংল্যান্ডে অসাধারণ অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন এবং ছোটবেলায় তাঁদের খেলা দেখে তিনি বড় হয়েছেন। তাঁদের কেউ এই পুরস্কার জিততে না পারার বিষয়টি অবশ্যই দুঃখজনক। ইংরেজ ফুটবলকে আবার মানচিত্রে ফিরিয়ে আনতে পেরে এবং এই ট্রফি হাতে নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত।
নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে কেইন বলেন, ফুটবলে তাঁর এখনো অনেক কিছু অর্জন করা বাকি। ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা এবং ইংল্যান্ডের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জয়—এগুলোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
Source: জাগো নিউজ২৪






