চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা এখন অনেক। এর বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওর ব্যবহার বাড়তে থাকায় দক্ষ ভিডিও এডিটরদের কাজের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে হাতের স্মার্টফোনটিই হয়ে উঠতে পারে আয়ের একটি মাধ্যম। ভিডিও সম্পাদনার জনপ্রিয় অ্যাপ ক্যাপকাট ব্যবহার শিখে ঘরে বসেই কাজ শুরু করা সম্ভব। তবে আয় নির্ভর করবে ব্যক্তির দক্ষতা, কাজের মান, অভিজ্ঞতা এবং ক্লায়েন্ট পাওয়ার ওপর।

ভিডিও এডিটিং শেখার জন্য শুরুতেই দামি কম্পিউটার কেনার দরকার নেই। স্মার্টফোন দিয়ে অনুশীলন করেও প্রাথমিক দক্ষতা অর্জন করা যায়। বিশেষ করে ফেসবুক রিলস, ইউটিউব শর্টস, টিকটক ভিডিও কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরির মধ্য দিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যেতে পারে।

যেভাবে শুরু করবেন

প্রথমে স্মার্টফোনে ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য ক্যাপকাট অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। এরপর অ্যাপটির বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করে ভিডিও সম্পাদনার প্রাথমিক বিষয়গুলো শেখা যাবে। অ্যাপটির অনেক সুবিধা বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়। তবে কিছু ফিচার, টেমপ্লেট ও সুবিধার জন্য অর্থ গুনতে হতে পারে। অঞ্চল ও সংস্করণভেদে সুবিধার পার্থক্যও থাকতে পারে।

শেখার জন্য ইউটিউবে ‘ক্যাপকাট এডিটিং টিউটোরিয়াল’ লিখে সার্চ করতে হবে। শুরুতেই ১০ থেকে ১৫টি টিউটোরিয়াল দেখে ভিডিও কাটছাঁট, ক্লিপ জোড়া লাগানো, মিউজিক যুক্ত করা, ট্রানজিশন ও লেখার ব্যবহার শেখা যায়। শুধু ভিডিও দেখা যথেষ্ট নয়, একই সঙ্গে নিয়মিত নিজেও অনুশীলন করতে হবে।

যে তিনটি ফিচার শেখা জরুরি

অটো ক্যাপশন: এই ফিচারের মাধ্যমে ভিডিওতে বলা কথাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখায় রূপান্তর করা যায়। সাক্ষাৎকার, শিক্ষামূলক ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরিতে এটি বেশ উপযোগী। তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি ক্যাপশনে ভুল থাকতে পারে; তাই প্রকাশের আগে সেগুলো যাচাই করা জরুরি।

ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ: ভিডিওর পেছনের দৃশ্য সরিয়ে সেখানে অন্য ব্যাকগ্রাউন্ড বসানোর কাজে এই ফিচার ব্যবহার করা যায়। পণ্যের প্রচারণা, উপস্থাপনামূলক ভিডিও ও সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরিতে এ ধরনের সম্পাদনা কাজে লাগে।

ট্রেন্ডিং ইফেক্ট: জনপ্রিয় ভিডিওর মতো আকর্ষণীয় সম্পাদনা করতে বিভিন্ন ইফেক্ট, ট্রানজিশন ও অ্যানিমেশনের ব্যবহার শিখতে হবে। তবে কেবল ট্রেন্ড অনুসরণ না করে ভিডিওর বিষয়বস্তুর সঙ্গে মানানসই ইফেক্ট বেছে নেওয়া ভালো।

কাজ কোথায় পাবেন

দক্ষতা অর্জনের পর নিজের তৈরি পাঁচ থেকে ছয়টি ভালো ভিডিও দিয়ে একটি পোর্টফোলিও তৈরি করতে হবে। এতে সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট আপনার কাজের মান বুঝতে পারবেন। এরপর কয়েকটি মাধ্যমে কাজ খোঁজা যেতে পারে।

মাসে কত আয় সম্ভব

কাজের ধরন ও মান অনুযায়ী ৩০ সেকেন্ডের একটি রিলস ভিডিও সম্পাদনার জন্য ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পারিশ্রমিক চাওয়া যেতে পারে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট বাজারদর নয়। ক্লায়েন্ট, সম্পাদনার জটিলতা ও কাজের পরিমাণ অনুযায়ী পারিশ্রমিক কমবেশি হবে। মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হলেও কেবল অ্যাপ শিখলেই এমন আয় নিশ্চিত নয়।

নিয়মিত অনুশীলন, ভালো পোর্টফোলিও, সময়মতো কাজ জমা দেওয়া এবং ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুরুতেই আয়ের লক্ষ্য না রেখে প্রতিদিন কিছুটা সময় শেখা ও অনুশীলনে ব্যয় করা উচিত। ধীরে ধীরে দক্ষতা বাড়াতে পারলে স্মার্টফোন দিয়েই ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ শুরু করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Source: জাগো নিউজ২৪