সাইবার হামলার শিকার হতে শুধু কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনই যথেষ্ট নয়। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত স্মার্ট ফ্রিজ, সিসিটিভি ক্যামেরা, স্মার্ট টিভি কিংবা ওয়াই-ফাই রাউটারও হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এসব ডিভাইসের নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি থাকলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে শুরু করে বাড়ির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই স্মার্ট হোমের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে ফ্রিজও এখন ‘স্মার্ট’ হয়ে উঠেছে। আধুনিক কিছু ফ্রিজ ইন্টারনেট, মোবাইল অ্যাপ বা ক্লাউড পরিষেবার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এসব সুবিধা ব্যবহারের জন্য ডিভাইসটি যখন অনলাইন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন সফটওয়্যার বা নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা হামলার চেষ্টা করতে পারে।

২০১৫ সালে লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত একটি হ্যাকিং সম্মেলনে গবেষকেরা একটি স্মার্ট ফ্রিজের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করেন। সেই ঘটনায় ডিভাইসটির মাধ্যমে ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের কিছু তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার বিষয় উঠে আসে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব স্মার্ট ফ্রিজই সহজে হ্যাক করা সম্ভব। ঝুঁকি নির্ভর করে ডিভাইসের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সফটওয়্যার এবং ব্যবহারকারীর সতর্কতার ওপর।

ফ্রিজ ছাড়াও স্মার্ট হোমে ব্যবহৃত অনেক যন্ত্র ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এসব ডিভাইসের নিরাপত্তায় ত্রুটি থাকলে সাইবার অপরাধীরা সেগুলোকে লক্ষ্য করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরা, স্মার্ট টিভি, ওয়াই-ফাই রাউটারসহ অন্যান্য ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইসের কথা উল্লেখ করা যায়।

কোনো স্মার্ট ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ পেলে হ্যাকাররা সেটির ধরন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে। যেমন—ক্যামেরার দৃশ্য দেখা, ডিভাইসের সেটিংস পরিবর্তন করা কিংবা সংরক্ষিত তথ্য সংগ্রহ করা। আবার দুর্বল রাউটারের মাধ্যমে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ডিভাইসেও প্রবেশের চেষ্টা হতে পারে। এর ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি বা বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তবে সব ডিভাইস হ্যাক হলেই যে এসব ঘটনা ঘটবে, তা নয়।

স্মার্ট হোম সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সতর্কতা মেনে চললে সাইবার হামলার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ইন্টারনেট-সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। কেনার আগে নিরাপত্তা আপডেটের সুবিধা যাচাই করা এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড ও সফটওয়্যার পরীক্ষা করাই হতে পারে ডিজিটাল বাড়িকে সুরক্ষিত রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্মার্ট হোম দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে, তবে নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকলে ঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

Source: জাগো নিউজ২৪