ব্রিটিশ উপকূলের ঠান্ডা, নোনা হাওয়ার মধ্যেও যুগের পর যুগ ধরে নিজেদের শেকড় আঁকড়ে আছেন প্রবাসী বাঙালিরা। চেনা পরিবেশ ছেড়ে অচেনা দেশে মানিয়ে নেওয়া, টিকে থাকা এবং মাতৃভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি ধরে রাখার সেই লড়াইয়ের ছবি দেখা যায় ইংল্যান্ডের সৈকতগুলোতেও।
সাউথ সি, ব্রাইটন কিংবা মার্গেইটের মতো জনপ্রিয় উপকূল একদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঐতিহ্যের ধারক, অন্যদিকে লাস্কার নাবিক ও পরে প্রবাসীদের হাতে শতকজুড়ে গড়ে ওঠা ব্রিটিশ বাঙালি ইতিহাসেরও অংশ। জসিম ও শাহিনের মতো বাঙালিরা প্রতিদিন পরিবার নিয়ে সৈকতে বেড়াতে যান, সমুদ্রপাড় তখন হয়ে ওঠে বাঙালিদের মিলনমেলা।
দক্ষিণ উপকূলের ঐতিহাসিক দ্বীপ শহর পোর্টসমাউথের পরিচিতি গড়ে উঠেছে সাউথসি বিচ, শতবর্ষী নৌ-ইতিহাস আর দীর্ঘদিনের বাঙালি ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ঘিরে। সাউথসি নামে পরিচিত সৈকত এলাকায় নুড়ি পাথর ও বালুর তটের পাশে আছে বিশাল সবুজ প্রান্তর ‘সাউথসি কমন’, কাছেই ক্ল্যারেন্স পিয়ার ও সাউথ প্যারেড পিয়ার নামে দুটি বিনোদনকেন্দ্র। সৈকত থেকে সোলেন্ট প্রণালির ওপারে আইল অব ওয়াইট দ্বীপের দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।
পোর্টসমাউথ বহু শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির প্রধান ঘাঁটি। শহরের Portsmouth Historic Dockyard জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে হেনরি অষ্টম-এর যুদ্ধজাহাজ ‘মেরি রোজ’, নেলসনের ফ্ল্যাগশিপ ‘এইচএমএস ভিক্টরি’ ও বিশ্বের প্রথম লোহার যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ওয়ারিয়র’। আধুনিক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে ৫৬০ ফুট উঁচু স্পিনাকার টাওয়ার পোর্টসমাউথ হারবারকে দৃশ্যমান করে তুলেছে।
উনিশ ও বিশ শতকে ব্রিটিশ বাণিজ্যিক ও নৌবাহিনীর জাহাজে কাজ করা বাঙালি ‘লাস্কার’ বা সমুদ্রচারীদের মাধ্যমেই দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বন্দরনগরগুলোতে দক্ষিণ এশীয়দের পা পড়ে। ১৯৬৩-১৯৬৪ সালের দিকে পোর্টসমাউথের বাঙালিরা গড়ে তোলেন Bangladesh Welfare Association, পরে গড়ে ওঠে Portsmouth Bengali Community Association-এর মতো দাতব্য ও সামাজিক সংগঠন। সাউথসি এলাকার ক্রিকেট ক্লাবে প্রতিবছর হওয়া ‘বাংলাদেশ মেলা’র মতো উৎসব বাঙালি ও স্থানীয় ব্রিটিশদের কাছাকাছি আনে।
লন্ডনের কাছাকাছি বলে মনে হলেও Southsea Beach আসলে হ্যাম্পশায়ারের পোর্টসমাউথে; লন্ডন থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭৪ মাইল (১২০ কিলোমিটার), গাড়ি বা ট্রেনে যেতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট। সৈকত ও আশপাশে ব্রিটিশ-বাঙালি ও দক্ষিণ এশীয়দের আনাগোনা অনেক, আর South Parade Pier ও স্থানীয় ক্যাফের পাশাপাশি এলাকায় আছে Haldi ও Royal Bengal-এর মতো দক্ষিণ এশীয় ও বাঙালি খাবারের কয়েকটি রেস্তোরাঁ।






