ব্রিটেনে নতুন করে জীবন গড়তে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কেয়ার কর্মী অনলাইনে কমবয়সী তরুণীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বড় ধরনের আইনি বিপদে পড়ছেন। বয়স ও পরিচয় নিয়ে ভুল তথ্য, যৌন আলাপ এবং পরে মুখোমুখি দেখা করতে গিয়ে অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সম্প্রতি এমন কিছু গ্রেপ্তারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, দেখা করতে গেলে তরুণীদের অভিভাবকেরা তাদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যে যৌন অপরাধের আইন খুবই কড়া। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সাধারণভাবে যৌন সম্মতির বয়স ধরা হয় ১৬ বছর, তবু ১৬-র কম বয়সী কারও সঙ্গে যৌন আলাপ বা সংস্পর্শ নিরাপদ বা বৈধ—এমন ভাবার সুযোগ নেই। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের (সিপিএস) নির্দেশনা বলছে, ১৮ বা তদূর্ধ্ব বয়সী কেউ ১৬-র কম বয়সী কোনো শিশুর সঙ্গে যৌন সংস্পর্শে গেলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
সেক্সুয়াল অফেন্স অ্যাক্ট ২০০৩-এর সেকশন ১৫-এর ‘এ’-তেও শিশুর সঙ্গে যৌন যোগাযোগকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা আছে, আর তদন্তে কেবল শারীরিক সম্পর্ক নয়, অনলাইন যোগাযোগও বিবেচনায় আসতে পারে। ফলে শুধু চ্যাট, ছবি পাঠানো বা দেখা করার কথা বলার মতো যুক্তি সব পরিস্থিতিতে দায় থেকে রেহাই দেয় না; অনলাইনে পরিচয়ের পর যৌন উদ্দেশ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করাও দেশটিতে গুরুতর অপরাধ।
এমন কয়েকটি ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানায়, ৪৮ বছর বয়সী রুহেল মিয়া স্ন্যাপচ্যাটে ১৫ বছরের কিশোর সেজে তিন কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন; একাধিক যৌন অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেটার ম্যানচেস্টারে কিরখান নামে এক ব্যক্তিও কিশোর সেজে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ১৩-১৭ বছর বয়সী কয়েক তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়েছিলেন; ৩০টি অপরাধে দোষী প্রমাণিত হয়ে তিনিও ১০ বছরের সাজা পান।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) ও ন্যাশনাল পুলিশ চিফ কাউন্সিলের (এনপিসিসি) হিসাবে, ২০২৫ সালে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা শিশু যৌন নিপীড়ন-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রায় এক লাখে দাঁড়ায়। একই হিসাবে দেশটিতে প্রতি মাসে গ্রেপ্তার হচ্ছে প্রায় এক হাজার সন্দেহভাজন, আর পুলিশি হেফাজতে আনা হচ্ছে প্রায় ১,২০০ শিশুকে।
দোষী সাব্যস্ত হলে বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিষয়টি আদালতের সাজাতেই থেমে না-ও থাকতে পারে; অপরাধ ও সাজার ধরন অনুযায়ী অভিবাসন মর্যাদায় প্রভাব পড়তে পারে, এমনকি ইউকেতে প্রবেশ বা থাকার অনুমতি প্রত্যাখ্যান বা বাতিলও হতে পারে। বিপুল অর্থ ও শ্রম খরচ করে পড়াশোনা ও চাকরির স্বপ্ন নিয়ে আসা অনেকের জন্য অনলাইনের একটি ভুল তাই তদন্ত, মামলা, চাকরিতে সমস্যা ও মানসিক চাপের কারণ হতে পারে।






