লন্ডনের হাউন্সলো এলাকায় প্রচলিত ইতালীয় পিৎজায় দেশি মসলা মিশিয়ে নতুন স্বাদ আনছেন প্রবাসী বাঙালি উদ্যোক্তারা। ইংল্যান্ডের এই এলাকার বহুমাত্রিক খাবারের বাজারে এমন পিৎজার কদর স্থানীয়দের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে।
ব্যবসা আর কমিউনিটি জীবনের মধ্য দিয়ে হাউন্সলোর বাঙালিরা নিজেদের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। প্রবাসের অচেনা পরিবেশেও শেকড় ধরে রেখে পরিশ্রম ও সততার জোরে তারা সাফল্যের নতুন নতুন অধ্যায় তৈরি করছেন। এখানে পরিবার নিয়ে থাকা বাঙালিদের মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেরই প্রায় ৭৫টি পরিবার আছে, যারা নানা ব্যবসায় যুক্ত।
হাউন্সলোর রিচমন্ড রোডে একটি জনপ্রিয় পিৎজা ডেলিভারি ও টেকঅ্যাওয়ে দোকান চালান জসিম উদ্দিন। সাধারণত বেলা সাড়ে ১১টায় দোকান খোলে, বন্ধ হয় গভীর রাতে; শুক্র ও শনিবার চলে রাত ২টা পর্যন্ত। ক্রেতারা সরাসরি গিয়ে বা ওয়েবসাইট ও ফুড ডেলিভারি অ্যাপে অর্ডার দিতে পারেন।
জসিম উদ্দিন বলেন, বহু বছর ধরে পরিবার নিয়ে এখানে আছেন, আরও অনেকে এমন পিৎজার দোকান দিয়েছেন, আর এ ব্যবসায় খাবার ও সেবার মান খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষ্য, ব্যবসা ও চাকরি করে বাঙালিরা এ দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন; সব মিলিয়ে সবাই দেশের জন্যই কাজ করছেন।
এলাকার বাঙালিরা মূলত ব্রিটিশ-এশিয়ান কারি হাউস ও রেস্তোরাঁ, দক্ষিণ এশীয় ও হালাল পণ্যের গ্রোসারি ও খুচরা দোকান, প্রপার্টি রেন্টালসহ নানা স্থানীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত। হাউন্সলোতে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশীয় ও ভারতীয়দের বসবাসের ইতিহাস দীর্ঘ, তবে সেখানে বাঙালি বা বাংলাদেশি জনসংখ্যা তুলনামূলক কম, প্রায় ১ শতাংশেরও কম।
১২১১ সালে তৈরি হোলি ট্রিনিটি প্রিয়রিকে ঘিরে হাউন্সলোর গোড়াপত্তন হয়। ১৯২০-এর দশকে গ্রেট ওয়েস্ট রোড নির্মাণ এবং ১৯৫০-এর দশকে হিথরো বিমানবন্দরের কাছে হওয়ায় পরে এলাকাটিতে বহু কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।





