নতুন স্টেডিয়াম না বানিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে, মাত্র ১৮ মাসের প্রস্তুতিতে আয়োজিত গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের নতুন মডেল হিসেবে দেখছে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন। রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত ‘দ্য স্টোরি সো ফার’ শীর্ষক অন্তর্বর্তী ওই প্রতিবেদনের মতে, ১১ দিনের এ আসর কম খরচে টেকসইভাবে বড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের হাতে-কলমে নজির গড়েছে।
৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদ এবার ১০টি ক্রীড়া ও ছয়টি প্যারা ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে লড়েছেন; ২১৫টি ইভেন্টে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৬৮টি পদক। ভেন্যু, লাইভ সাইট ও গ্লাসগো ২০২৬ ফেস্টিভ্যাল মিলিয়ে সরাসরি অংশ নিয়েছেন ৬ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ প্রায় ৫০ কোটি। চার হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ১১০ ঘণ্টা।
প্যারা ক্রীড়ার সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তি ছিল গ্লাসগোর বড় সাফল্য। গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার ছয়টি প্যারা ডিসিপ্লিনে ৪৭টি পদক ইভেন্ট হয়েছে; প্রথম সোনাটিও এসেছে প্যারা পাওয়ারলিফটিং থেকে, যা জিতে ইতিহাস গড়েন ইংল্যান্ডের মার্ক সোয়ান।
পরিবেশের দিক থেকেও নতুন মানদণ্ড গড়েছে গ্লাসগো। সব ভেন্যু ছিল আট মাইলের মধ্যে, বিদ্যুৎ এসেছে স্কটিশ গ্রিডের শতভাগ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে; পরিবহনের ৭১ শতাংশ ছিল হাইব্রিড বা বৈদ্যুতিক, যার ৬৩ শতাংশই পুরোপুরি বৈদ্যুতিক। মেন্যুর ৫৯ শতাংশ খাবারই ছিল উদ্ভিদভিত্তিক বা নিরামিষ, অস্থায়ী অবকাঠামোর ৯০ শতাংশের বেশি আবার কাজে লাগানো হয়েছে, আর ভেন্যুর ব্যানার বানানো হয়েছে পুনর্ব্যবহৃত ৯৯ হাজার ৪০১টি প্লাস্টিক বোতলে।
কিংস ব্যাটন রিল চলাকালে ১৮৮টি জায়গায় ১১১টি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামেন ১৪ হাজার ৩০৪ স্বেচ্ছাসেবক; সাগরে পৌঁছানোর আগেই তাঁরা তুলে আনেন ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪টি প্লাস্টিক বর্জ্য, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।
গ্লাসগো ২০২৬-এর প্রধান নির্বাহী ফিল ব্যাটির মতে, নতুন চিন্তা থাকলে কম ব্যয়েও বড় আন্তর্জাতিক আসর সফল করা যায়, এ গেমস তার প্রমাণ। কমনওয়েলথ স্পোর্টের প্রধান নির্বাহী কেটি স্যাডলিয়ারের মতে, গ্লাসগো আরও নমনীয়, যৌথ ও টেকসই আয়োজনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে; এতে সামনে আরও অনেক দেশ গেমস আয়োজনের সুযোগ পাবে।
আয়োজকদের হিসাবে গ্লাসগো ২০২৬-এর সম্ভাব্য ব্যয় ১৬২ দশমিক ৬ মিলিয়ন পাউন্ড, যেখানে ২০১৪ সালের গ্লাসগো গেমসে খরচ হয়েছিল ৫৪৩ মিলিয়ন আর ২০২২ সালের বার্মিংহাম গেমসে ৬৮০ মিলিয়ন পাউন্ড। সাতটি দেশ এরই মধ্যে আয়োজক হতে আগ্রহ দেখিয়েছে; ২০৩০ সালের শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমস হবে ভারতের আমদাবাদে।






