লন্ডনের হিথ্রো বিশ্বের ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর একটি; বাংলাদেশসহ নানা দেশের লাখো প্রবাসী ও পর্যটকের যাতায়াতে এটি অন্যতম প্রবেশদ্বার। মাত্র দুটি সমান্তরাল রানওয়ে দিয়ে এখানে দিনে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফ্লাইট ওঠানামা করে; বছরে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার ওঠানামার যে আইনি সীমা, তার কাছাকাছি চলে বিমানবন্দরটি। ব্যস্ত সময়ে গড়ে প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে একটি করে বিমান ওড়ে বা নামে।
বছরে হিথ্রো দিয়ে যাতায়াত করেন প্রায় ৮৫ মিলিয়ন, অর্থাৎ সাড়ে ৮ কোটি যাত্রী। প্রায় ৯০টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স এখান থেকে প্রায় ৯০টি দেশের ২৩০টির বেশি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট চালায়। আশপাশের বাসিন্দাদের কথা ভেবে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণত নতুন উড্ডয়নের সূচি রাখা হয় না, আর শব্দদূষণ কমাতে গভীর রাতে ওঠানামা কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়।
বিমানবন্দরটির যাত্রা শুরু ১৯৩০ সালে, ‘লন্ডন এয়ারপোর্ট’ নামের ছোট একটি বিমানক্ষেত্র হিসেবে। ১৯৪৬ সালের ২৫ মার্চ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে, সেটি বেসামরিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
প্রথম আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, অর্থাৎ টার্মিনাল ১ চালু হয় ১৯৬৯ সালে। পরে ১৯৮৬ সালে টার্মিনাল ৪, ২০০৮ সালে সবচেয়ে বড় ও অত্যাধুনিক টার্মিনাল ৫ এবং ২০১৪ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের নামে টার্মিনাল ২ চালু হয়। ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পর এখন চারটি সক্রিয় টার্মিনাল আর দুটি সমান্তরাল রানওয়ে নিয়ে চলছে হিথ্রো।
২০২৫ সালে হিথ্রো দিয়ে যাতায়াত করেছেন প্রায় ৮৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন যাত্রী, যা এক বছরে বিমানবন্দরটির সর্বোচ্চ যাত্রীসংখ্যার রেকর্ড। বিমান চলাচলের বাড়তে থাকা চাহিদা সামাল দিতে সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও চলছে।





