চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (এইচ ওয়ান) ইউরোপের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপগুলো পেয়েছে রেকর্ড ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩০ শতাংশ বেশি। মহাদেশটিতে এ সময়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মোট লগ্নির ৫৫ শতাংশ পেয়েছে এআই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। বুধবার (৫ আগস্ট) হিউম্যানএক্স ও ক্রাঞ্চবেসের যৌথ প্রতিবেদন ‘২০২৬ ইউরোপিয়ান এআই ইকোনমি রিপোর্ট’-এ এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে এ খাতে বিনিয়োগ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার। এবারের অর্থের ৭৩ শতাংশই গেছে মাত্র ৩৮টি স্টার্টআপে, যাদের প্রতিটি কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন ডলার করে তুলেছে। ছয় মাসে ছয়টি ইউরোপীয় এআই প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে; তালিকায় আছে রোবোটিকস কোম্পানি নিউরা রোবোটিক্স, স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির ওয়েভি, এলফ্যাবেটের মালিকানায় থাকা ওষুধ গবেষণার প্রতিষ্ঠান আইসোমরফিক ল্যাবস এবং বিশ্বখ্যাত এআই গবেষক ইয়ান লেকুন যার সহপ্রতিষ্ঠাতা, সেই অ্যাডভান্সড মেশিন ইন্টেলিজেন্স।
স্টেফান ওয়েইৎজ, যিনি হিউম্যানএক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বলেন, এআইয়ের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ইউরোপ আর পিছিয়ে নেই। তাঁর মতে, রোবোটিকস, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মতো ইউরোপের ঐতিহ্যগত শক্তির জায়গাগুলোতেই এখন বড় অঙ্কের লগ্নি আসছে। বিশ্লেষকেরা একে এআই দৌড়ে ইউরোপের অবস্থান শক্ত হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
দেশভিত্তিক হিসাবে শীর্ষে যুক্তরাজ্য, যারা একাই পেয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ পুরো ইউরোপের এআই বিনিয়োগের ৫৩ শতাংশ। দ্বিতীয় জার্মানি, ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বা ১৫ শতাংশ; তৃতীয় ফ্রান্স, ২.৯ বিলিয়ন ডলার বা ১২ শতাংশ। দ্রুত উঠে আসছে নেদারল্যান্ডসও: সিরিজ-বি রাউন্ডে কাস্পএআই (নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক) তুলেছে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, আর সিরিজ-এ রাউন্ডে ডাচ প্রতিষ্ঠান জেনারাল ইনটুইশন পেয়েছে ৩২০ মিলিয়ন ডলার।
তবে নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি বৈষম্যের হতাশাজনক চিত্রও আছে প্রতিবেদনে। যেসব এআই স্টার্টআপে ২০২৩ সাল থেকে অন্তত একজন নারী প্রতিষ্ঠাতা আছেন, তারা মোট চুক্তির ১৮ শতাংশ করলেও অর্থ পেয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা, বড় অঙ্কের লগ্নি এখনো মূলত পুরুষদের নেতৃত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানেই জমা হচ্ছে।
ক্রাঞ্চবেসের এআইভিত্তিক পূর্বাভাস বলছে, বিনিয়োগের এ গতি সামনেও থাকবে। হিউম্যান এক্স আমস্টারডামে অংশ নেওয়া বেসরকারি এআই স্টার্টআপগুলোর ৪৮ শতাংশের ফের বিনিয়োগ পাওয়ার, ১১ শতাংশের অন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে অধিগ্রহণ হওয়ার এবং ৭ শতাংশের আইপিওতে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালের পর কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলার তুলেছে এমন এক হাজারের বেশি ইউরোপীয় স্টার্টআপের তথ্য যাচাই করে তাদের ধারণা, আগামী ১২ মাসে এদের ৫৯ শতাংশ নতুন বিনিয়োগ পাবে, ১৮ শতাংশ অধিগ্রহণের আওতায় আসতে পারে এবং ৫ শতাংশ তালিকাভুক্ত হতে পারে শেয়ারবাজারে।
জেনে টিয়ার, ক্রাঞ্চবেসের সিনিয়র রিসার্চ লিড, মনে করেন, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও শিল্পে ইউরোপের দীর্ঘদিনের শক্তির সঙ্গে এআইয়ের মেলবন্ধনই অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। তবে দীর্ঘ মেয়াদে সফল হতে মূলধন, কম্পিউটিং অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও বাজার, এই চারটিকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে বলে মত দেন তিনি।





