হজের খরচ সামলাতে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের একাংশ এখন বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন। বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা চলছে বিশেষত তাদের মধ্যে, যাদের বাংলাদেশ ও ব্রিটেন দুই দেশেরই নাগরিকত্ব আছে; তাদের অনেকের ধারণা, যুক্তরাজ্যের চেয়ে বাংলাদেশের প্যাকেজে মোট ব্যয় প্রায়ই কম পড়ে।
যুক্তরাজ্য থেকে হজে কত খরচ হবে, তা ঠিক হয় প্যাকেজ, হোটেলের মান, থাকার মেয়াদ, ফ্লাইট ও অন্যান্য সুবিধার ভিত্তিতে; ব্রিটিশ প্যাকেজগুলোর অনেকগুলোর দাম ১০ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়। প্রবাসীদের হিসাবে সেখান থেকে একেকজনের গড় ব্যয় ১২ থেকে ১৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ হয়ে গেলে অনেক সময় ৭ থেকে ৮ হাজার পাউন্ডেই হয়ে যায়।
বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে কম দামের হজ প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকার, আর দ্বিতীয়টি ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকার; বেসরকারি পর্যায়েও ছিল নানা প্যাকেজ। অবশ্য বিমানভাড়া, হোটেল কত দূরে, খাবার ও থাকার মেয়াদ অনুযায়ী আসল খরচ অনেকটা কমবেশি হয়। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া যায়, তাই প্রবাসীদের একাংশ এখন বাংলাদেশি পাসপোর্ট করা, নবায়ন ও দ্রুত হাতে পাওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ব্রিটিশ বাংলাদেশি হজ ও ওমরাহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আনসারী ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ইমাম আবু সাঈদ আনসারী জানান, প্রায় ২৫০ জন দ্বৈত নাগরিক গত বছর এভাবে হজ সম্পন্ন করেছেন এবং কম খরচে হজ করতে পেরে বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী এই হাজিরা খুবই সন্তুষ্ট। তবে সুযোগটি কত দিন থাকবে, তা নিয়ে তিনি সংশয়ে আছেন।
চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টে হজ করে আসা লন্ডনের ৭০ বছর বয়সী আব্দুর রব বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকায় অল্প খরচেই হজ সারতে পেরেছেন। ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া লন্ডনবাসী আশরাফ আলী জানান, যাওয়ার সময় তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্টে জেদ্দা হয়ে গেছেন আর ফিরেছেন ব্রিটিশ পাসপোর্টে হিথ্রো দিয়ে, ‘ভ্রমণ, হজ পালনসহ কোনো ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়নি।’ স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশ হয়ে হজ করা লীডসের ড. তৈয়বুর রহমানের মতে, কম খরচ ছাড়াও দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে একসঙ্গে হজে যাওয়ার সুযোগ অনেকের কাছে বড় আকর্ষণ।
দ্বৈত নাগরিকদের প্রধান দাবি, হজের সময় পাসপোর্ট পাওয়া বা নবায়নের আবেদন যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। তাদের যুক্তি, হজের সময়সীমা নির্দিষ্ট, পাসপোর্টে দেরি হলে পুরো যাত্রাই অনিশ্চয়তায় পড়ে; তাই যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলার দপ্তরের মাধ্যমে এ সেবা সহজ ও দ্রুত করা দরকার। পরিবারের কয়েকজন একসঙ্গে যুক্তরাজ্য থেকে হজে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যায় বলে বাংলাদেশের পথে আগ্রহ বাড়ছে, আর সরকার পাসপোর্ট-প্রক্রিয়া সহজ করে হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় করলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে অনেকের ধারণা।
প্রবাসীদের একাংশ মনে করেন, অন্য দেশের সরকারের মতো বাংলাদেশও বিদেশে থাকা দ্বৈত নাগরিকদের হজযাত্রায় সহযোগিতা দিতে পারে, আর এ সুবিধা কীভাবে চলবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা ও সরকারি নির্দেশনা দরকার। তবে হজ আন্তর্জাতিক ধর্মীয় কার্যক্রম বলে সৌদি ভিসা, পাসপোর্ট ও হজ কোটার নিয়মের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের বিধিও মানতে হয়; বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই কেউ আপনা-আপনি দেশের হজ কোটায় জায়গা পাবেন, তার নিশ্চয়তা নেই, তাই কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করে নেওয়া জরুরি। দ্বৈত নাগরিকেরা ভবিষ্যতেও একইভাবে বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে পারবেন কি না, সেটিই এখন প্রবাসীদের মধ্যে বড় প্রশ্ন।






