যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার নামে একটি কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিবিসিসিআই (ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি)। সংগঠনটির মতে, উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এটি হবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
লন্ডনের আইভি হিল হোটেলে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চেম্বারের নতুন কমিটির অভিষেক উপলক্ষে বিবিসিসিআই বিজনেস রিসেপশন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেই আসে এ ঘোষণা। প্রধান বক্তা ছিলেন ড. এম নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার। অনুষ্ঠানের আগে দুটি ডিরেক্টর পদে ভোট হয়, তাতে জয়ী হন জাহিরুল ইসলাম সিআইপি ও আমিরুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি যুক্তরাজ্য বা বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি চেম্বারের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ টানার কাজেও এটি ভূমিকা রাখবে।
বিবিসিসিআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল মুসলেহ আহমেদ বলেন, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে চেম্বারের কাজ শুধু নেটওয়ার্কিংয়ে আটকে না থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য বাস্তব সুযোগ তৈরির দিকে এগোবে। তার ভাষায়, লক্ষ্য হলো ‘যোগাযোগকে বাণিজ্যে এবং আকাঙ্ক্ষাকে সুযোগে রূপান্তর করা’। তিনি জানান, ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যাতে পরস্পরকে চিনতে, অংশীদারত্ব গড়তে, নতুন বাজার খুঁজতে ও একসঙ্গে ব্যবসা বাড়াতে পারেন, সে রকম একটি প্ল্যাটফর্মই তারা গড়তে চান।
চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মুহিব চৌধুরীর মতে, ট্রেড সেন্টার একটি আধুনিক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী চেম্বার গড়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা ব্যবসায়ীদের সামনে নানা সুযোগ খুলে দেবে; দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করতে বিবিসিসিআই সামনের সারিতে থাকবে বলেও জানান তিনি। চেম্বার জানিয়েছে, প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, সরকারি প্রতিনিধি ও কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ চলবে। ভবিষ্যতে কেন্দ্রটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের স্বীকৃত কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বলে আশা সংগঠনটির।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিবিসিসিআইয়ের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট বশির আহমেদ বিইএম ও রফিক হায়দার, উপদেষ্টা সাইদুর রহমান রেনু, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাজ নজরুল খসরু, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসাইন, বিসিএ প্রেসিডেন্ট অলি খান, হারোর সাবেক মেয়র সেলিম চৌধুরী ও মাহী ফেরদৌস জলিল (চ্যানেল এস-এর প্রতিষ্ঠাতা) প্রমুখ।






