অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাম্পবেলটাউনে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন সাবকন্টিনেন্ট ফ্রেন্ডস অব ক্যাম্পবেলটাউন ইনকরপোরেটেডের নতুন নির্বাহী পরিষদ ঘোষণা করা হয়েছে। মিন্টো কমিউনিটি হলে শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ পরিষদ অনুমোদন পায়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাতৃভাষার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনায় নতুন প্রজন্মের মাতৃভাষা চর্চা ও নানা ভাষাভাষী গোষ্ঠীর সম্প্রীতি বাড়াতে নিয়মিত কর্মসূচি চালায় সংগঠনটি।

সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন মোহাম্মাদ আবদুল মতিন, যিনি আরসিএন কলেজের প্রধান নির্বাহী এবং অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। আরও ছিলেন ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের দুই কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশ ও মাসুদ চৌধুরী এবং সাংবাদিক নাইম আবদুল্লাহ ও এএইচএম মাসুম বিল্লাহ।

নতুন পরিষদে আছেন একজন প্রধান উপদেষ্টা, ১৮ জন পদাধিকারী ও ৭ জন কার্যনির্বাহী সদস্য। প্রধান উপদেষ্টা পারভেজ খান; সভাপতি কায়সার আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ। সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বে মাহফুজুল হক চৌধুরী খসরু এবং কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফেরদৌস ওমি।

সহসভাপতি পদে রয়েছেন খালেদা কায়সার, তুঙ্গনাথ খারেল, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সরকার, হরিশ গোয়াল ও মোহাম্মদ ইকবাল ফারুক। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন মিলি ইসলাম, মাকসুদুর রহমান চৌধুরী সুমন ও কিশওয়ার আখতার কাকলী। এ ছাড়া ড. শাফিন রাশেদ সাংস্কৃতিক সম্পাদক, জুই সেন তুলী সহকারী সাংস্কৃতিক সম্পাদক, নজরুল ইসলাম সাচ্চু সাংগঠনিক সম্পাদক, আব্দুস সোবহান প্রকাশনা সম্পাদক এবং হোসনে আরা তালুকদার আইরিন প্রেস ও জনসংযোগ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন গণেশ ভৌমিক, আলমগীর ইসলাম বাবু, ড. মোহাম্মাদ সিরাজুল হক, মনিরুল ইসলাম মুন্না, ফারুক এম. তালুকদার, সাজ্জাদ সিদ্দিকী ও মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার মনজু।

সভাপতি কায়সার আহমেদ জানান, ক্যাম্পবেলটাউনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিস্তম্ভ গড়ার একটি উদ্যোগ অনুমোদন পেয়েছে; প্রকল্পের জন্য সরকারি অনুদানও বরাদ্দ হয়েছে এবং আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। তার মতে, স্মৃতিস্তম্ভটি বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সব জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার প্রতি সম্মান ও ভাষাবৈচিত্র্যের প্রতীক হয়ে উঠবে।