কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেনে অবস্থিত ঐতিহাসিক হল্যান্ড পার্ক মসজিদ ঘুরে দেখেছেন গ্লোবাল ইমামস অ্যান্ড স্কলার্স কাউন্সিলের (জিআইএসসি) আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। অস্ট্রেলিয়ায় সংগঠনটির চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলন এবং অবকাশকালীন কর্মসূচির অংশ ছিল এই সফর, যেখানে তাঁরা দেশটিতে ইসলামের ইতিহাস, প্রথম দিকের মুসলিম অভিবাসীদের অবদান ও মুসলিম সমাজের বিকাশের কথা জানতে পারেন।
মসজিদটির শুরুর গল্প উনিশ শতকের শেষভাগে আসা মুসলিম অভিবাসীদের বসতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ব্রিসবেনের মাউন্ট গ্রাভাট আর হল্যান্ড পার্ক এলাকায় আফগান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিমদের বসতি গড়ে ওঠে ১৮৮০-এর দশকের শেষ দিকে; তাঁরা প্রথমে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়মিত নামাজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতেন। পরে স্থানীয় মুসলিমদের অর্থে ১৯০৮ সালে সেখানে কাঠের একটি মসজিদ তৈরি হয়।
এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মসজিদটি উপাসনা, ইসলামী শিক্ষা ও সামাজিক মেলামেশার কেন্দ্র হয়ে আছে এবং অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। শুরু থেকেই স্থানীয় মুসলিম পরিবার, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও ভ্রমণকারীদের মিলনস্থল ছিল এটি; ঈদসহ নানা ধর্মীয় উৎসবে দূরদূরান্ত থেকে পরিবারগুলো এসে এখানে জড়ো হতো।
মুসলিম জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় একসময় পুরোনো কাঠের ঘরে আর জায়গা কুলাচ্ছিল না, তাই ১৯৬৬ সালে সেখানে দোতলা ইটের নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে মসজিদটি উপাসনা ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে, আর মসজিদ-সংশ্লিষ্ট একটি জাদুঘর কুইন্সল্যান্ডের মুসলিম সমাজের ইতিহাস ধরে রাখছে।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল (এএনআইসি) আয়োজিত এবারের সম্মেলনে কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার নানা মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। আলোচনায় গুরুত্ব পায় আলেমদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, মুসলিম সমাজের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামী পরিচয় ও মূল্যবোধ ধরে রাখার প্রশ্ন। ইসলামী শিক্ষার প্রসার, নাগরিক অধিকার রক্ষা, ইসলামবিদ্বেষের মোকাবিলা এবং ইমাম-আলেমদের নেতৃত্বগুণ বাড়ানো নিয়েও কথা হয়।
সিডনিতে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা আর সাংগঠনিক বৈঠক ছাড়াও প্রতিনিধিরা দেশটির বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ব্রিসবেনের স্ল্যাকস ক্রিক মসজিদে ১১ অক্টোবর এএনআইসির ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা হয়, তাতেও যোগ দেন জিআইএসসির আন্তর্জাতিক অতিথিরা।
হল্যান্ড পার্ক মসজিদ সফরে প্রতিনিধিরা অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিমদের দীর্ঘ পথচলা, ত্যাগ আর প্রতিষ্ঠান গড়ার ইতিহাস সরাসরি জানার সুযোগ পান; সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রথম যুগের অভিবাসীরা কীভাবে ধর্মচর্চা ধরে রেখে পরের প্রজন্মের জন্য প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন, তা এই ইতিহাসের বড় দিক। সফর শেষে আন্তরিক অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মুসলিমদের ধন্যবাদ জানায় জিআইএসসির প্রতিনিধিদল।






