কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি মারা যাওয়ায় শোক জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম কমিউনিটি। সম্প্রতি কমিউনিটির একটি প্রতিনিধি দল রাজধানী ক্যানবেরায় কাতার দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূত আলী সাদ মোহাম্মদ হাবাব আল-হাজরির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানায়।

আধুনিক কাতারের অন্যতম রূপকার শেখ হামাদ ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমিরের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে শিক্ষা, অবকাঠামো, জ্বালানি ও কূটনীতিতে দেশটি বড় অগ্রগতি অর্জন করে, আর মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশে মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনে তার ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা পায়।

দলে ছিলেন শাইখ রিয়াদ আল-রিফাই (অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি), শাইখ মালিক জিদানে (লেবানিজ দারুল ইফতার প্রতিনিধি), শাইখ হাসান জিদানে, ফাওয়াদ আল-আশৌহ ও কায়সার তারাদ।

রাষ্ট্রদূত আল-হাজরি প্রতিনিধি দলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের ওপর কাতার-লেবানন সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ২০০৬ সালের ইসরায়েলি সামরিক হামলার পর দক্ষিণ লেবাননের অনেক শহর-গ্রাম নতুন করে গড়ে তুলতে শেখ হামাদের নেতৃত্বে কাতারের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার লেবানিজ ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদেরও শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রদূত।

শাইখ মালিক জিদানে ও শাইখ রিয়াদ আল-রিফাই প্রতিনিধি দলের হয়ে কাতারের জনগণ ও সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তাদের ভাষ্য, সংকটকালে কাতারের ধারাবাহিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কাজ লেবাননের মানুষ মনে রাখবে। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতও দূতাবাসে গিয়ে আলাদাভাবে সমবেদনা জানান।

এদিকে মুসলিমদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলস (এএফআইসি) বুধবার (১৫ জুলাই) শোকবার্তা দিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ড. রাতেব জোনাইদ এতে আল-থানি পরিবার, কাতারের জনগণ ও সরকার এবং দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির প্রতি সমবেদনা জানান।

ড. রাতেব শেখ হামাদকে দূরদর্শী ও রূপান্তরকামী নেতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তার হাতেই কাতার আধুনিক রাষ্ট্রে রূপ নেয় এবং বিশ্বমঞ্চে শক্ত অবস্থান গড়ে। শোকের সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমরা কাতারি কমিউনিটির পাশে আছেন জানিয়ে তিনি মরহুমের মাগফিরাত কামনা করেন।