অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির পুরোনো সংগঠনগুলোর একটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া (বিএওএ) রোববার (১৯ জুলাই) বার্ষিক গালা ডিনার ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে। সিডনির মিন্টোর সিসড্যাক মিলনায়তনে উৎসবের আমেজে অনুষ্ঠানটি হয়।

প্রধান অতিথি ছিলেন ক্রিস মিন্স এমপি, নিউ সাউথ ওয়েলসের ৪৭তম প্রিমিয়ার। আর বিশেষ অতিথির আসনে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল ডেলি এমপি, ক্যাম্পবেলটাউন সিটির মেয়র ডার্সি লাউন্ড, ম্যাট থিসলথওয়েট এমপি (সহকারী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য), লেপিংটনের সদস্য নাথান হ্যাগার্টি এমপি এবং হিউজেসের ফেডারেল সদস্য ডেভিড মনক্রিফ এমপি।

সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মনিরুল হক জর্জ। সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ইসলাম উদ্বোধনী পর্ব সঞ্চালনা করেন, মূল পর্ব উপস্থাপন করেন তিসা তানিয়া ও জুঁই সেন পল। শুরুতে কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের পর দুই দেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়, আর আদিবাসীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘অ্যাকনলেজমেন্ট অব কান্ট্রি’ উপস্থাপন করেন আঙ্কেল ডেভিড বেল।

স্বাগত বক্তব্যে মনিরুল হক জর্জ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে সংগঠনের নানা উদ্যোগের কথা জানান। প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ানদের অবদানের প্রশংসা করেন। তার মতে, নিউ সাউথ ওয়েলসের বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গড়ায় এই সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর বক্তব্য দেন ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের তিন কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, আশিকুর রহমান (অ্যাশ) ও ইব্রাহিম খলিল মাসুদ; ক্যামডেন সিটি কাউন্সিল থেকে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর এলিজা আজাদ টুম্পা। অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রকাশনা ‘চলন্তিকা’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করেন বেলাল হোসেন ঢালী, কায়সার আহমেদসহ নেতারা। সাংস্কৃতিক পর্বটি উপস্থাপন করেন কিশওয়ার আখতার কাকলী ও পুরবী পারমিতা বোস, সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক বেলাল হোসেন ঢালী। প্রবাসী শিল্পীদের গান, নাচ ও কৌতুক নাটক চলে গভীর রাত পর্যন্ত; বেলাল হোসেন ঢালীর কৌতুক নাটক বিশেষ প্রশংসা পায়।

সমাপনী বক্তব্যে আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন উপস্থিত অতিথি, শিল্পী, পৃষ্ঠপোষক, গণমাধ্যমকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং কমিউনিটির ঐক্য ধরে রাখতে সহযোগিতা চান। আয়োজনের সদস্য সচিব ছিলেন মাকসুদুর রহমান চৌধুরী সুমন। কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রবাসীদের বড় এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।