গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিক সচেতনতা জোরদারে অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিক শিক্ষার প্রসারে জোর দিয়েছেন হার এক্সেলেন্সি দ্য অনারেবল সাম মোস্টিন এসি, দেশটির গভর্নর জেনারেল।

সংবিধান শিক্ষা তহবিল অস্ট্রেলিয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সম্প্রতি গভর্নমেন্ট হাউসে নাগরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন তিনি। অস্ট্রেলীয় ফেডারেশনের ১২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকটি হয় সংস্থাটির চেয়ারম্যান দ্য অনারেবল রবার্ট ফ্রেঞ্চ এসির সভাপতিত্বে।

নাগরিক শিক্ষা কীভাবে গণতন্ত্রকে মজবুত করতে এবং প্রত্যেক নাগরিককে আত্মবিশ্বাস নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে উৎসাহ দিতে পারে, তা নিয়েই ছিল আলোচনা। গভর্নর জেনারেল বলেন, পারস্পরিক যত্ন, সম্মান ও অন্তর্ভুক্তিই গণতন্ত্রের ভিত্তি; সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজে কাউকে ভেতরের বা বাইরের মানুষ হিসেবে ভাগ করা চলে না, সবার সমান অংশগ্রহণেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

তরুণদের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে বিনিয়োগ যে জরুরি, সে কথা বিশেষভাবে বলেন সাম মোস্টিন। দেশজুড়ে যে তরুণ নেতাদের সঙ্গে তিনি কাজ করছেন এবং নানা উদ্যোগে যেভাবে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে, তা অস্ট্রেলিয়ার গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে ছিলেন জুলিয়ান লিজার (শিক্ষাবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী), কেরি জোন্স (সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী), অধ্যাপক দ্য অনারেবল জর্জ ব্র্যান্ডিস কেসি (পরিচালক), অধ্যাপক জিওফ গ্যালপ এসি ও জর্জ হ্যারিস। নাগরিক সমাজ ও শিক্ষা খাতের প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নাগরিক দায়িত্ববোধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেও সমান জোর দেওয়া হয়, স্কুল থেকেই শিক্ষার্থীরা সংসদ, সংবিধান, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের পাঠ পায়। দেশটিতে প্রতিবছর ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী স্কুলে এবং ১৫ লাখের বেশি উচ্চশিক্ষায় পড়ে; বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রিয় গন্তব্য হওয়ায় শিক্ষা খাত দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয়েও বড় ভূমিকা রাখে।

২০২৪ সালের ১ জুলাই শপথ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ২৮তম গভর্নর জেনারেল হন সাম মোস্টিন। শিক্ষা, ব্যবসা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, জলবায়ু পরিবর্তন, জননীতি ও অলাভজনক খাতে দীর্ঘ নেতৃত্ব ও জনসেবার জন্য দেশজুড়ে তিনি পরিচিত।