অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রেডরোজ ফাংশন সেন্টারে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় হয়ে গেল ‘গামা আব্দুল কাদির: প্রশান্তপারের বাঙালি নাবিক’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব। ইতিহাস, শেকড় আর আত্মপরিচয়কে ঘিরে আয়োজনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আবেগঘন মিলনমেলায় রূপ নেয়।
গ্রন্থের কেন্দ্রীয় চরিত্র গামা আব্দুল কাদিরকে মঞ্চে ডাকা হলে পুরো মিলনায়তন উঠে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ করতালিতে তাকে সম্মান জানায়। প্রবাসীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অভিবাদনে শুরুতেই আবেগে ভরে ওঠে সন্ধ্যাটি।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সম্পাদনা পরিষদের সদস্য পুরবী পারমিতা বোস মঞ্চ আলোকিত করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। সভাপতিত্ব করেন একুশে একাডেমির সভাপতি ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সুলতান মাহমুদ, সঞ্চালনায় ছিলেন ড. সাখাওয়াত নয়ন। মঞ্চে আরও ছিলেন গ্রন্থ প্রকাশের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এস এম আব্রাহাম লিংকন, উপদেষ্টা পরিষদের ড. সিরাজুল হক, অজয় দাশগুপ্ত, আশীষ বাবলু ও শফিকুল আলম এবং সম্পাদনা পরিষদের রোকেয়া আহমেদ ও আল নোমান শামীম।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতের পর অমিয়া মতিন ও লিলি গোমেজের নেতৃত্বে গাওয়া হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত; পরে দুজন আলাদাভাবে গানও শোনান। দাদাকে নিয়ে নাতনি লিয়ান আলী ও নাতি আরিয়ান আমিনের স্মৃতিচারণে অতিথিরা আবেগাপ্লুত হন।
এস এম আব্রাহাম লিংকন ও গামা আব্দুল কাদিরকে ফুল দিয়ে বরণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। শফিকুল আলমের স্বাগত বক্তব্যে আলোচনা পর্ব শুরু হয়; ড. সিরাজুল হক, রোকেয়া আহমেদ, আশীষ বাবলু ও আল নোমান শামীম শুভেচ্ছা জানিয়ে কথা বলেন। মূল আলোচক অজয় দাশগুপ্ত, যিনি প্রাবন্ধিক, ছড়াকার ও কলামিস্ট হিসেবে পরিচিত, বইটির ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক মূল্য ব্যাখ্যা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, ইতিহাস, শেকড় ও আত্মপরিচয় থেকে আমরা ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছি। তার মতে, বইটি কেবল একজন মানুষের জীবনকাহিনি নয়, প্রবাসে লড়াই করা হাজারো বাংলাদেশির ত্যাগ ও সাফল্যের দলিল; ভবিষ্যতে অভিবাসন ও প্রবাসজীবন নিয়ে গবেষণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎস হিসেবে কাজে লাগবে।
পাঠক প্রতিক্রিয়া পর্বে ড. আবুল হাসনাত মিল্টন, অনিলা পারভীন, অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, শওকত মোসলেমান এমএলসি ও আতিকুর রহমান শুভ বইয়ের বিষয়বস্তু, প্রবাসজীবনের বাস্তবতা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
গামা আব্দুল কাদির সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ সম্মান তার একার নয়, প্রশান্তপারের প্রতিটি সংগ্রামী প্রবাসী বাংলাদেশির প্রাপ্য। সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সুলতান মাহমুদ বইটিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিহাস ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন। পরে শতাধিক পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী গামা আব্দুল কাদিরের স্বাক্ষর করা বই সংগ্রহ করেন এবং তার সঙ্গে ছবি তোলেন।
এরপর পুরবী পারমিতা বোস ও তিশা তানিয়ার উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক পর্বে গান শোনান মারিয়া মুন, ক্লোজআপ তারকা মেহেদী এবং আতিক হেলাল ও মিতা হেলাল; নাচে অংশ নেন লিন্ডা মণ্ডল ও আদৃতা দে। নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়।






