রোববার (৯ আগস্ট) সিডনিতে হয়ে গেল ‘অ্যালায়েন্স অব অস্ট্রেলিয়ান মুসলিমস’ (এএএম) আয়োজিত নবম অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম কমিউনিটি লিডার্স সামিট। এতে অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্য ও টেরিটরির মুসলিম নেতা, ইমাম ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে মুসলিমদের ঐক্য জোরদার, জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিন্ন অবস্থান তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।

এএএম জানায়, তাদের ছাতার নিচে রয়েছে দেশজুড়ে তৃণমূল ও মূলধারার ২৬০টির বেশি মুসলিম সংগঠন। স্বাধীন ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সংগঠনটি অ্যাডভোকেসি, সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ, গণমাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব, জননীতি ও কমিউনিটি উন্নয়নে কাজ করে। জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতৃত্ব দেবে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল (এএনআইসি), আর বৃহত্তর অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততায় সমন্বয় করবে এএএম; দুই সংগঠনের এই পরিপূরক ভূমিকাও পুনর্ব্যক্ত হয়।

সম্মেলন থেকে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় ইসলাম, অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম সমাজ, মুসলিম নেতা বা ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্মিলিতভাবে চাপানো ঠিক নয়। সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ভুক্তভোগীদের পাশে থাকার কথা বলা হয়। পাশাপাশি রাজনীতিকদের দায়িত্বশীল আচরণ, নির্ভুল ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ এবং সব নাগরিকের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

সম্মেলনের বক্তব্য ছিল, অস্ট্রেলিয়াই মুসলিমদের দেশ ও আবাসভূমি; তারা এ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর শান্তি, সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। আইন মেনে চলা, জনজীবনে অংশ নেওয়া ও সমাজের সেবার মধ্য দিয়ে তারা সেই অঙ্গীকার পালন করছেন। বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের বদলে মুসলিম সংগঠন, ইমাম ও কমিউনিটি নেতারা এখন ক্রমেই সমন্বিতভাবে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

সামিটে বেশ কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়: ইসলামী পরিচয় রক্ষা, মুসলিম ঐক্য ও সম্মিলিত প্রতিনিধিত্ব জোরদার করা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা, ইসলামোফোবিয়া ও ফিলিস্তিনবিরোধী বর্ণবাদ মোকাবিলা, রাজনীতি ও গণমাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানো, ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন, সংগঠনের সুশাসন ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং তরুণ, নারী ও নওমুসলিমদের আরও বেশি যুক্ত করা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বিশ্বাস ও পরিচয় রক্ষা, প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐক্য ও যৌথভাবে কাজের সক্ষমতাকে মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে।

ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় বিশেষ দূতের কয়েকটি সুপারিশ অস্ট্রেলিয়ান সরকার গ্রহণ করায় সম্মেলন একে স্বাগত জানায়, তবে বাকিগুলোও পর্যাপ্ত অর্থায়ন, পরিমাপযোগ্য ফলাফল ও স্পষ্ট জবাবদিহির ভিত্তিতে বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়। ইসলামোফোবিয়ার শিকার মানুষ ও মুসলিম প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও কার্যকর সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমে মুসলিমদের ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপনের দাবিও ওঠে।

ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকারের প্রতি সমর্থন আবারও জানায় সম্মেলন। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে যুদ্ধাপরাধ, অবৈধ দখল, অবরোধ, জোর করে বাস্তুচ্যুত করা, অনাহারে রাখা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের নিন্দা জানানো হয় এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে শক্ত কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, মানবিক ও আইনি পদক্ষেপ, উপযুক্ত নিষেধাজ্ঞা ও জবাবদিহি দাবি করা হয়। সুদানসহ সংঘাত, দুর্ভিক্ষ ও নিপীড়নের শিকার জনগোষ্ঠী এবং রোহিঙ্গা ও উইঘুরদের প্রতিও সংহতি জানানো হয়।