রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নেভির কমোডর ফ্লোটিলাস সাইমন হাওয়ার্ড, সিএসএম বাংলাদেশ সফর করেছেন, উদ্দেশ্য দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করা। অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন জানিয়েছে, সফরে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে পেশাগত সহযোগিতার সুযোগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তায় অভিন্ন স্বার্থ এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। চট্টগ্রামের কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভসে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ হারানো অস্ট্রেলীয় বিমানসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধাও জানান তিনি।
দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক অনেক পুরোনো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশিক্ষণ, সামরিক যোগাযোগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ে সহযোগিতা বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগ ২০২২ সালে ঢাকায় আবাসিক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার পদ চালু করলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা যোগাযোগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
এইচএমএএস চাইল্ডার্স নামের আর্মিডেল শ্রেণির টহল জাহাজটি ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে, কয়েক দশকের বিরতির পর বাংলাদেশে অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর কোনো জাহাজের সেটিই ছিল প্রথম সফর। তখন নৌ-কূটনীতি, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও দুই নৌবাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা বাড়ানোয় জোর দেওয়া হয়েছিল।
২০২২ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার ‘ইন্দো-প্যাসিফিক এনডেভার’ কর্মসূচির মাধ্যমেও সহযোগিতা বাড়ছে, ২০২৩ সালে এর আওতায় অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিটের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন ও অভিজ্ঞতা ভাগ করেন। ২০২৫ সালের আগস্টে ক্যানবেরায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে প্রথম আলোচনা হয়, আর একই বছর এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে যুক্ত করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের তথ্যমতে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল ভারত মহাসাগর অঞ্চল দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের বিষয়, আর দেশটির ২০২৫-৩০ মেয়াদের উন্নয়ন অংশীদারত্ব পরিকল্পনায় বাংলাদেশের সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোকে সহযোগিতার ক্ষেত্র ধরা হয়েছে। বাংলাদেশকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার মনে করা অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, আঞ্চলিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে তারা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চালিয়ে যেতে চায়।






