নারীর প্রতি সম্মান, পুরুষের দায়িত্বশীল আচরণ ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে হয়ে গেল ‘নারীর নিরাপত্তায় পুরুষের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক সেমিনার। স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পবেলটাউন সিভিক সেন্টারে এটি অনুষ্ঠিত হয়, যাতে কমিউনিটির প্রতিনিধি, পেশাজীবী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন অংশ নেন।

নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের সহায়তায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে কালচারাল ডাইভারসিটি নেটওয়ার্ক ইনক (সিডিএনআই)। সঞ্চালনা করেন ড. সাবরিন ফারুকি, যিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য, নীরবতা পালন ও অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়।

ভিডিও বার্তা পাঠান নারীর নিরাপত্তা কমিশনার ড. হান্না টনকিন, যাতে নারীর নিরাপত্তায় পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি পুরুষদের দায়িত্বের কথা বলা হয়। পরে বক্তব্য দেন মনিরুল হক জর্জ, তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি। এরপর সচেতনতা নিয়ে একটি জ্ঞান যাচাই পর্ব পরিচালনা করেন ক্যানিতা আহমেদ।

পারিবারিক সহিংসতায় সম্প্রতি প্রাণ হারানো ছয়জনকে স্মরণ করে মোমবাতি জ্বালানো হয় ও এক মিনিট নীরবতা পালিত হয়, সংহতি জানানো হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের সহায়তা ও সেবা আছে, তা নিয়ে বলেন জুলি অ্যান উইনফোর্ড, আর সিডিএনআইয়ের পরামর্শক ওয়েন প্রিয়র সংগঠনটির বিভিন্ন সেবার কথা জানান।

দলীয় ও প্যানেল আলোচনা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান অংশ। ড. ইশরাত জাহান ও সম্প্রদায় সম্পর্কবিষয়ক ব্যবস্থাপক স্যাম বোরকার সঞ্চালনায় এতে অংশ নেন জুলফিকার হক (আইনজীবী), খোদেজা আক্তার (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ), ডা. সত্যজিৎ দত্ত (সাধারণ চিকিৎসক) এবং স্থানীয় পুলিশের পরিদর্শক লুক। আলোচনায় পারিবারিক সহিংসতার নানা দিক, তা ঠেকাতে পুরুষের দায়িত্ব, ভুক্তভোগীদের স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সহায়তা আর পুলিশ কী ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে কথা হয়।

পরিবারে নিরাপদ পরিবেশ, পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়। উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরাও মতামত ও অভিজ্ঞতা জানান, পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে চুপ না থেকে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। আয়োজকেরা বলেন, নারীর নিরাপত্তা শুধু নারীদের সচেতন করার বিষয় নয়, পুরুষদেরও এগিয়ে এসে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে, আর পরিবার, সমাজ ও গোটা কমিউনিটি একসঙ্গে উদ্যোগ না নিলে এ সহিংসতা কার্যকরভাবে রোধ করা যাবে না।

তাঁদের মতে, বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পারিবারিক সহিংসতা ঠেকাতে সহমর্মিতা, সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সচেতনতার চর্চা বাড়াতে হবে, আর পুরুষদের ইতিবাচক ভূমিকা পরিবার ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী (ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল), কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান (ক্যামডেন সিটি কাউন্সিল) এবং মোহাম্মাদ আবদুল মতিন (অস্ট্রেলিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আরসিএন কলেজের প্রধান নির্বাহী) প্রমুখ কমিউনিটি নেতা উপস্থিত ছিলেন। শেষে সিডিএনআইয়ের পরামর্শক কামাল পাশা অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।