রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর পূর্তিতে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি আবারও জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে নিজ দেশে ফিরতে পারে, সে জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়তে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের এক বার্তায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বার্তায় বাংলাদেশের উদারতা ও মানবিকতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া জানায়, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তারা সব মিলিয়ে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; এর সুবিধা পাচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থী, বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী ও মিয়ানমারের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ। ২০২৬ সাল থেকে তিন বছর মেয়াদি ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচিও চালু করেছে দেশটি।

এই সহায়তায় খাদ্য, পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, সুরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলার মতো কার্যক্রম চলছে, যার আওতায় আছেন কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় বাসিন্দারা। অস্ট্রেলিয়া বলছে, জরুরি সহায়তার বাইরে রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা ও সুরক্ষা বাড়ানো এবং স্থানীয় নেতৃত্বে নেওয়া উদ্যোগকে আরও কার্যকর করাতেও তারা জোর দিচ্ছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশে এখন ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে আছে। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর তারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে; মঙ্গলবার ছিল সেই সংকটের নবম বার্ষিকী।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান অ্যালি এর আগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে মানবিক কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেছেন। জুলাইয়ে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে পেনি ওয়ং রোহিঙ্গা সংকট ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন; উভয়েই রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বের সহায়তা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তায় জোর দেন।

সংকট দীর্ঘায়িত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ওপর চাপ বাড়তে থাকার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার এ নতুন অঙ্গীকার এল।