নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষের খোঁজ মেলেনি। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩৯ জন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

নিখোঁজদের খোঁজে জরুরি তৎপরতার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া সরকার ঘোষণা দিয়েছে ৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক সহায়তার। এ অর্থ খরচ হবে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, জরুরি আশ্রয়, পয়ঃনিষ্কাশন ও চিকিৎসাসেবায়।

পেনি ওয়ং জানান, নিখোঁজ অস্ট্রেলীয়দের খুঁজে বের করে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারগুলোকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়াই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। নেপালে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ জন অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে আরও কর্মকর্তা এবং মানবিক সহায়তা, যোগাযোগ, লজিস্টিকস ও পরিকল্পনায় দক্ষ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হচ্ছে।

ঘোষিত অর্থের মধ্যে ২ মিলিয়ন ডলার পাবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP), আর দেশটির নানা মানবিক সংস্থার হাত দিয়ে দুর্গত এলাকায় ব্যয় হবে আরও ২ মিলিয়ন। বাকি ১ মিলিয়ন ডলার যাবে ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের কাছে, যারা স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ১৫টি শীর্ষ বেসরকারি মানবিক সংস্থার এই জোটে আছে অক্সফাম অস্ট্রেলিয়া, সেভ দ্য চিলড্রেন অস্ট্রেলিয়া ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া।

দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিও ‘এবিসি গিভস’ উদ্যোগের মাধ্যমে এই ত্রাণ তহবিলে সহায়তা দিচ্ছে, যার অর্থে অ্যালায়েন্সের সদস্য সংস্থা ও তাদের নেপালি অংশীদারেরা দুর্গতদের কাছে খাবার, পানি, আশ্রয় ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেবে।

ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; অনেক এলাকা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশুদ্ধ পানি, খাবার, জরুরি আশ্রয় ও চিকিৎসার অপেক্ষায় আছেন হাজারো মানুষ। জোটটির নির্বাহী পরিচালক কেরেন মরিসের ভাষায়, নেপাল ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা ধ্বংসযজ্ঞের ছবিগুলো হৃদয়বিদারক; কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বহু পরিবার স্বজন, ঘর ও জীবিকা হারিয়েছে।

যৌথ এই ত্রাণ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ACFID); সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ মরি বলেন, প্রয়োজন দ্রুত বাড়ছে বলে সমন্বিত পদক্ষেপ খুব জরুরি। প্রয়োজনে মানবিক ও কনস্যুলার সহায়তার পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। দুর্গত এলাকায় থাকা অস্ট্রেলীয়দের স্থানীয় নির্দেশনা মানতে ও সরকারের ভ্রমণ পরামর্শ নিয়মিত দেখতে বলা হয়েছে।