বিশ্বের নানা দেশের প্রায় ৪০ হাজার দৌড়বিদের অংশগ্রহণে রোববার (৩০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সিডনি ম্যারাথন। পুরুষ বিভাগে শিরোপা জিতেছেন ইথিওপিয়ার আদ্দিসু গোবেনা (২১), গড়েছেন নতুন কোর্স রেকর্ড। নারী বিভাগে সেরা হয়েছেন কেনিয়ার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী পেরেস জেপচিরচির।

দৌড় শুরু হয় ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে নর্থ সিডনিতে; সিডনি হারবার ব্রিজ পার হয়ে ৪২ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটারের পথ শেষ হয় অপেরা হাউসের সামনে। বিশ্ব ম্যারাথন মেজরসের তালিকায় ওঠার পর এটি ছিল সিডনির দ্বিতীয় আসর, তাই তারকা দৌড়বিদদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ দৌড়বিদও এতে অংশ নেন।

পুরুষ বিভাগে শুরু থেকেই চলে তীব্র লড়াই। শেষমেশ স্বদেশি চিমদেসা দেবেলেকে পেছনে ফেলে ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন গোবেনা। এতে ভেঙে যায় গত বছর হাইলেমারিয়াম কিরোসের গড়া ২ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৬ সেকেন্ডের রেকর্ড; অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো পুরুষ ম্যারাথনবিদের এটিই দ্রুততম সময়।

দ্বিতীয় হওয়া দেবেলের সময় ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড, আর তৃতীয় স্থান পাওয়া লেসোথোর তেবেল্লো রামাকোঙ্গোয়ানা সময় নেন ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড। প্রথম পাঁচজন দৌড় শেষ করেন মাত্র ১৭ সেকেন্ডের ব্যবধানে, আর শীর্ষ সাতজনের সবাই আগের কোর্স রেকর্ডের চেয়ে কম সময় নেন।

নারীদের দৌড়ে প্রথম দিকে নেতৃত্বে ছিলেন কেনিয়ার প্রিসকা চেরোনো, তবে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নেন জেপচিরচির। ৩০ কিলোমিটার পেরোনোর পর স্বদেশি আইরিন চেপ্টাইকে পেছনে ফেলে একাই এগিয়ে যান তিনি এবং ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে শেষ করেন। রানারআপ চেপ্টাইয়ের সময় ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ১১ সেকেন্ড; তৃতীয় স্থানে থাকা ইথিওপিয়ার শুরে দেমিসে ওয়ারের লেগেছে ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড।

গত বছরের চ্যাম্পিয়ন সিফান হাসানের রেকর্ড (২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ২২ সেকেন্ড) থেকে জেপচিরচির মাত্র ৯ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিলেন; লন্ডন, বোস্টন ও নিউইয়র্কের পর এটি বিশ্ব ম্যারাথন মেজরসে তাঁর চতুর্থ শিরোপা। হুইলচেয়ার বিভাগেও এবার রেকর্ড হয়েছে: পুরুষদের দৌড়ে ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়ে জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ড্যানিয়েল রোমানচুক, নারীদের দৌড়ে ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ৪ সেকেন্ডে সেরা সুইজারল্যান্ডের মানুয়েলা শ্যার। বিশ্ব ম্যারাথন মেজরসের আটটি আসরের প্রতিটিতে জেতা প্রথম অ্যাথলেট এখন শ্যার।

অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে সবার আগে দৌড় শেষ করেন পুরুষ বিভাগে অ্যান্ডি বুকানান (২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ড) ও নারী বিভাগে এলি প্যাশলি (২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২৮ সেকেন্ড)। ২৩ বছর বয়সে মাল্টিপল মায়েলোমা নামের রক্তের ক্যানসার ধরা পড়া ফাইভ ডকের টবি ফুলার কেমোথেরাপি চলার মধ্যেই ৩ ঘণ্টা ১৮ মিনিটে দৌড় শেষ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন। আয়োজন ঘিরে দাতব্য খাতে উঠেছে ১ কোটি ৪০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি, আর ৪০ হাজার দৌড়বিদের উপস্থিতিতে শহরের পর্যটন, আতিথেয়তা ও স্থানীয় ব্যবসায় বাড়তি অর্থনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে।