নিউ সাউথ ওয়েলসের কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নারী মেয়র পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই কাউন্সিলের মেয়র পদে বসেছেন লেবানিজ বংশোদ্ভূত ওলা হামেদ। একই দিন আয়োজিত নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানে ৬২৮ জন অভিবাসী অস্ট্রেলিয়ার নতুন নাগরিক হিসেবে শপথ নেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা মানুষ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও জীবনধারা এলাকার বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।
নতুন নাগরিকদের অস্ট্রেলীয় পরিবারে স্বাগত জানিয়ে মেয়র ওলা হামেদ বলেন, তাঁদের পথচলা, অবদান ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন সমাজের শক্তি, প্রাণবন্ততা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে। কাম্বারল্যান্ডকে নিজের ঠিকানা হিসেবে বেছে নেওয়ায় তিনি তাঁদের অভিনন্দন জানান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক বিচারক ও বিশিষ্ট আইনবিদ এলিজাবেথ এভাট এসি এবং রবিন টাপম্যান, যিনি লিগ্যাল এইডের রিফিউজি টিমের প্রতিনিধি।
২০২৪ সালের স্থানীয় নির্বাচনের পর নতুন কাউন্সিলে মেয়র পদে ভোট হয়। ওলা হামেদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অভিজ্ঞ কাউন্সিলর পল গ্যারার্ড, যিনি ‘আওয়ার লোকাল কমিউনিটি’ দলের সদস্য। হামেদকে সমর্থন দেন চারজন লিবারেল কাউন্সিলর, গ্রিনসের সুজান সেলভেন ও লেবার পার্টির পাঁচ সহকর্মী; গ্যারার্ডকে ভোট দেন একই দলের হেলেন হিউজ ও স্টিভ ক্রাইস্টু।
নির্বাচনের পর চেম্বারে ঢুকলে কাউন্সিলর ও অতিথিরা করতালি দিয়ে নতুন মেয়রকে স্বাগত জানান। দায়িত্ব নিয়ে সহকর্মী, সমর্থক ও পরিবারকে ধন্যবাদ জানান হামেদ এবং বলেন, এ পদে আসতে পেরে তিনি সত্যিই সম্মানিত।
কাউন্সিলের ভেতরে এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ঐক্য গড়াকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন নতুন মেয়র। তাঁর মতে, নাগরিক নেতৃত্বের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া দরকার ঐক্য আর সহযোগিতা; রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতভেদ থাকলেও এলাকার মানুষের জন্য একসঙ্গে এগোতে হবে। ২০২৪-২০২৮ মেয়াদে বিভেদ ও উত্তেজনা ভুলে পেশাদারত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা আর সুশাসনকে ভিত্তি করে এগোনোর ডাক দেন তিনি।
এলাকার পরিষেবার মানোন্নয়ন, জনগোষ্ঠীর ঐক্য জোরদার, কাউন্সিলের সঙ্গে বাসিন্দাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সুশাসন নিশ্চিত করা তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। লেবার পার্টির কাউন্সিলর হিসেবে হামেদ এলাকার সেবা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও বহু সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে সক্রিয়; তাঁর জয়কে এলাকার অভিবাসী ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।






