অস্ট্রেলিয়া সরকারের অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস বৃত্তিতে পাওয়া জ্ঞান ও গবেষণা-অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশে স্বেচ্ছা রক্তদানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজের স্বীকৃতি পেলেন ডা. ফারাহ আনজুম সোনিয়া। বাংলাদেশি এই চিকিৎসক অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস-সাউথ এশিয়া অ্যান্ড মঙ্গোলিয়া আয়োজিত ২০২৬ সালের অ্যালামনাই ইমপ্যাক্ট স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতার লিখিত গল্প বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া সরকারের বৃত্তি কর্মসূচির ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতাটির লক্ষ্য ছিল সাবেক বৃত্তিধারীদের কাজ, সাফল্য ও সামাজিক প্রভাব তুলে ধরা। লেখা, ছবি ও ভিজ্যুয়াল গল্প মিলিয়ে ৭০টির বেশি এন্ট্রি জমা পড়ে; লিখিত ও ভিজ্যুয়াল দুই বিভাগে একজন করে বিজয়ীর নাম ঘোষণা হয় ২৯ জুলাই এক অনলাইন অনুষ্ঠানে। ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং বিভাগে জিতেছেন পাকিস্তানের জারকা খান।

বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা যে রোগী ও সেবাপ্রার্থীর জীবনে সত্যিকারের মানবিক বদল আনতে পারে, সেটিই ছিল ডা. ফারাহর লেখার মূল কথা। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসে (ইউএনএসডব্লিউ) পড়ার সময় অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে তিনি রক্তদাতাদের দুশ্চিন্তা কমাতে এবং রক্ত দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে স্বস্তিদায়ক করতে উদ্যোগ নেন; এ কাজে শান্ত পরিবেশ ও সংগীতের মতো প্রমাণনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, আধুনিক ব্লাড ব্যাংকিং ও অ্যাফেরেসিস মেডিসিনে তার বিশেষ আগ্রহ; রক্তদাতাদের মানসিক অস্বস্তি দূর করা ও স্বেচ্ছা রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ানো তার গবেষণার কেন্দ্রে।

২০২৪ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনার সহলেখক হিসেবে তিনি স্বেচ্ছা রক্তদান বাড়ানোর নানা কৌশলের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন; সেখানে বৈশ্বিক রক্তসংকট মোকাবিলায় স্বেচ্ছা রক্তদানের গুরুত্ব উঠে আসে। ২০২২ সালে এশিয়ান জার্নাল অব মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ-এ প্রকাশিত তার এক যৌথ গবেষণায় বাংলাদেশে থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জের জটিলতা সামলানোর অভিজ্ঞতা উঠে আসে; একই জার্নালের আরেক গবেষণার বিষয় হিমোফিলিয়া রোগীর চিকিৎসায় ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা ও ক্রায়োপ্রেসিপিটেটের ব্যবহার।

থ্যালাসেমিয়া ও হিমোফিলিয়ার রোগীদের নিয়মিত রক্ত ও রক্তজাত উপাদান লাগতে পারে বলে দেশে নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা জরুরি, তাই তার কাজের গুরুত্বও বেশি। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডা. ফারাহ বলেন, অস্ট্রেলিয়া কেবল তার একাডেমিক জ্ঞান বাড়ায়নি, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তার চিন্তার ধরনও বদলে দিয়েছে।