মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন স্মরণে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। হাজারো মানুষের এ সমাবেশে যোগ দেন ধর্মীয় নেতা, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিক, কূটনীতিক, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি ও নানা দেশের কমিউনিটি নেতারা।
লিভারপুলের গ্র্যান্ড স্টেডিয়ামে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন অব ইসলামিক চ্যারিটেবল প্রজেক্টস, পৃষ্ঠপোষক ছিল দারুল ফাতওয়া-দ্য সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া। প্রতিপাদ্য ছিল ‘মুহাম্মদ, তার পথেই জীবন’। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শেখ সালিম আলওয়ান আল-হুসাইনি (মহাসচিব, দারুল ফাতওয়া অস্ট্রেলিয়া) ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজি মোহাম্মদ মাহিউ।
লিভারপুলের এমপি কারিশমা কালিয়ান্দ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনসের প্রতিনিধি হয়ে। বক্তব্য দেন নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলাবিষয়ক স্টেট এনভয় আফতাব মালিকও; এমপি ডেভিড মনক্রিফ, নাথান হ্যাগার্টি, জুলিয়া ফিন ও লিন্ডা ফল্ট এবং বহুসংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ ক্যাম্পারও উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়া, মরক্কো, সুদান, ইরাক ও লেবাননের কূটনীতিক প্রতিনিধি এবং পাকিস্তান, বসনিয়া, মিসর, লেবানন ও ইরাকের কনস্যুলার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে ছিলেন। লিভারপুল ও ব্যাংকসটাউন পুলিশের প্রতিনিধি, স্থানীয় কাউন্সিলর, শায়খ, আলেম, ইসলামি ও সামাজিক সংগঠনের নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যের পর শায়খ ও ধর্মীয় নেতাদের নেতৃত্বে মহানবী (সা.)-এর পবিত্র নিদর্শনসহ একটি শোভাযাত্রা স্টেডিয়ামে ঢোকে, নিদর্শনগুলো রাখা হয় মঞ্চে আর হাজারো মানুষ শ্রদ্ধাভরে তা দেখেন। প্রদর্শিত হয় এসব নিদর্শনের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক স্মারক ও দলিলও; আয়োজকদের ভাষ্য, কয়েকটিতে সুলতান ও ইসলামি পণ্ডিতদের সিল ও স্বীকৃতির প্রমাণ রয়েছে। এরপর শিশু ও বড়দের নানা ভাষার নাশিদ, গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উঠে আসে মহানবীর জীবন, চরিত্র ও মানবতার প্রতি তার শিক্ষা।
শেষ পর্বে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে একজনকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়; বিজয়ীকে পুরস্কারটি দেন শায়খ ইব্রাহিম আল-শাফেয়ি। আয়োজকেরা জানান, মহানবীর জীবন ও আদর্শ স্মরণের পাশাপাশি মুসলিম কমিউনিটির ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বাড়ানোই ছিল আয়োজনের উদ্দেশ্য, আর নানা দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এটি অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তারা।






