অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, শিক্ষার্থী ভিসায় পরিবার আনা, এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় গিয়ে থাকার মেয়াদ বাড়ানো, ভিজিটর ভিসায় থেকে নতুন আবেদন, আর ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের সুযোগে লাগাম টানা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, নিট বৈদেশিক অভিবাসন চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৪৫ হাজারে আর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামানো।
নতুন নিয়মে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ভিসার আওতায় সঙ্গী বা সন্তানকে আনতে পারবেন না, যদিও এখন দেশটিতে থাকা পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা হবে না। আসিয়ানভুক্ত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিক এবং পিএইচডির মতো কিছু উচ্চতর কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা এ নিয়মে ছাড় পাবেন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ; পরিবার সঙ্গে নিতে চাইলে আবেদনের আগেই কোর্স ও ভিসা শ্রেণির শর্ত দেখে নিতে হবে।
গত অর্থবছরে দেশটিতে অনুমোদন পাওয়া ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৭টি শিক্ষার্থী ভিসার ৪৫ হাজার ৯৯১টিই ছিল পরিবারের সদস্যদের। একটি কোর্স শেষ হলে সমান বা নিম্নস্তরের আরেক কোর্সে ভর্তি হয়ে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হবে; কোর্স বদলাতে নতুন ভিসা লাগতে পারে, তবে স্নাতক থেকে স্নাতকোত্তরের মতো উচ্চতর ধাপে যাওয়ার পথ খোলা থাকবে। সরকার চায়, শিক্ষার্থী ভিসা যেন দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনের বিকল্প পথ হয়ে না ওঠে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের সর্বশেষ হিসাবে, নিট বৈদেশিক অভিবাসন ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ জনে, যা আগের বছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ (১৭ হাজার ৪০০ জন) কম হলেও সরকারের লক্ষ্যের চেয়ে বেশি। একই সময়ে দেশটির মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ৭০০ বেড়েছে।
ভিজিটর ভিসায় এসে অন্য ভিসায় যাওয়ার সুযোগও কমছে; সাধারণভাবে এ ভিসায় ‘নো ফার্দার স্টে’ শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে। ওয়ার্কিং হলিডে মেকার কর্মসূচির দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার আসন থাকবে, যেখানে গত বছর দ্বিতীয় বছরের অনুমতি পেয়েছিলেন প্রায় ৫৭ হাজার ব্যাকপ্যাকার; তৃতীয় মেয়াদের আসন প্রায় ৩১ হাজার থেকে নেমে আসবে ৫ হাজারে, বাছাই হবে ব্যালটে। দ্বিতীয় বছরের জন্য আঞ্চলিক এলাকায় ৮৮ দিন ও তৃতীয় বছরের জন্য ছয় মাস কাজ করতে হবে, তবে অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।
নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা, মৎস্য ও জলজ চাষের মতো শ্রমিকসংকটে থাকা খাতের দক্ষ কর্মীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নতুন পয়েন্ট ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির পাশাপাশি গৃহনির্মাণসংশ্লিষ্ট কারিগরি দক্ষতাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা আছে, যা বাংলাদেশের মতো দক্ষ কর্মী পাঠানো দেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে বৈধ ভিসা ছাড়া থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত, আটক ও ফেরত পাঠাতে ১০০ জন অতিরিক্ত কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগ এবং ভিত্তিহীন আবেদনে উৎসাহ দেওয়া অভিবাসন এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, পরিবর্তনের বড় অংশ বিদ্যমান ক্ষমতাবলে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে; তবে শিক্ষার্থী ভিসায় আগমন নিয়ন্ত্রণসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে পার্লামেন্টে নতুন আইন পাস করতে হবে। উদ্দেশ্য হলো ভিসার অপব্যবহার কমিয়ে কে আসবেন, কত দিন থাকবেন এবং বৈধ ভিসা না থাকলে কখন ফিরে যাবেন, তার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা।






