পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের পার্থের উত্তরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাসনিম নামের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মারা গেছেন, আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালের এ দুর্ঘটনা ঘটে ব্রেটন বে এলাকার ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভে।

প্রাথমিক তথ্যমতে, সি-বার্ড রোডের সংযোগস্থলের কাছাকাছি সকাল পৌনে ৮টার দিকে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং রাস্তার ধারের একটি গাছে গিয়ে ধাক্কা দেয়। বয়স বিশের কোঠায় এমন এক তরুণী গুরুতর জখম অবস্থায় গাড়ির ভেতরে আটকে পড়েন; সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছ থেকে জানা গেছে, ওই তরুণীর নাম তাসনিম; শিক্ষার্থী হিসেবে দুই মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন তিনি। তবে তাঁর পূর্ণ পরিচয় ও বাংলাদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি অস্ট্রেলীয় পুলিশ কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

চালকসহ আহত অন্য তিনজনের বিষয়ে প্রাথমিক সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, তাঁদের আঘাত গুরুতর, তবে প্রাণসংশয় নেই। ২১ বছর বয়সী দুজন পুরুষ রয়্যাল পার্থ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল; অপ্রাপ্তবয়স্ক আরেকজনকে নেওয়া হয়েছে পার্থ শিশু হাসপাতালে।

দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পুলিশ, দমকলকর্মী ও জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা; একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হলেও পরে সেটি ফিরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্তের জন্য সড়কের ওই অংশে দুই দিকেই যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল।

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই উপকূলীয় মহাসড়ক উত্তরে ইয়ানচেপ থেকে জেরাল্ডটনের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত গেছে। এর সিবার্ড, গ্যাবাডাহ ও ল্যান্সেলিন অংশে আগেও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হয়েছে—২০১৭ সালের জুনে সিবার্ডের কাছে মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২০১৯ সালের আগস্টে পর্যটকবাহী বাসের সঙ্গে আরেক গাড়ির সংঘর্ষে এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গ্যাবাডাহতে গাছে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণহানির খবর এসেছিল।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি; রাজ্য পুলিশের গুরুতর দুর্ঘটনা তদন্তকারী দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রত্যক্ষদর্শী বা ওই সময়ে কোনো গাড়িতে ধারণ করা ভিডিও থাকলে তা পুলিশকে দিতে বলা হয়েছে। তাসনিমের মৃত্যুর খবরে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে; স্বজন, সহপাঠী ও পরিচিতজনেরা তাঁর পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন।