জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে উৎপাদন ফের বন্ধ হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় আজ রোববার, ২৫ অক্টোবর ভোর ৫টা থেকে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মাত্র দুই দিন আগে কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে কারখানাটি চালু করা হয়েছিল।

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার উৎপাদন শুরু হবে। পুনরায় চালুর পর পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে গত দুই দিনে কারখানায় মোট ১ হাজার ৬০০ টন ইউরিয়া তৈরি হয়েছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সার কারখানায় দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসের ঘাটতি ও যান্ত্রিক সমস্যায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বারবার বন্ধের কারণে কারখানাটির উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কৃষি মৌসুমে সার সরবরাহে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

অক্টোবরেই দুবার বন্ধ

দীর্ঘ বিরতির পর গত ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। এরপর প্রস্তুতি নিয়ে ৬ অক্টোবর ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ৮ অক্টোবর তা আবার বন্ধ করতে হয়।

ত্রুটি দূর করার পর গত শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফেরে। এরপর দুই দিন না যেতেই রোববার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন করে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

ফজলুল হক জানান, প্রতিদিন নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখার জন্য ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই চাপে গ্যাস প্রয়োজন। চাহিদামতো গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ না পাওয়ায় কারখানা চালু রাখা যাচ্ছে না। রোববার ভোর ৫টা থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখার কারণও গ্যাসের এই ঘাটতি।

দীর্ঘ বন্ধের পরও সংকট

এর আগেও দীর্ঘ সময় উৎপাদনের বাইরে ছিল যমুনা সার কারখানা। গ্যাসের সংকট ও নানা যান্ত্রিক জটিলতায় ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২৩ মাস কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ ছিল।

সেই বিরতির পর উৎপাদন শুরু হলেও তা অব্যাহত রাখা যায়নি। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাসের সংকটে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সংযোগ পায় কারখানাটি।

কারখানাটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া। তবে জাগো নিউজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমান উৎপাদনক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টনে নেমেছে।

২১ জেলায় যায় সার

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানার সার সরবরাহ করা হয়। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলা এই সরবরাহের আওতায় রয়েছে।

উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কারখানা স্বাভাবিকভাবে চালু থাকলে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়। এতে কারখানার লাভ হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, সার উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ব্যয় পুরোপুরি থামে না। ফজলুল হক জানান, অন্যান্য খরচ বাদ দিয়েও শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখার গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনমতো গ্যাস সরবরাহ ফিরে পেলেই কারখানায় আবার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা হবে।

Source: জাগো নিউজ২৪