শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং নির্যাতনের অভিযোগে সার্বিয়ায় ১০ পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন বর্তমানে কর্মরত এবং একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন আহত ব্যক্তির ওপর শারীরিক বলপ্রয়োগ করেন এবং তাঁদের হুমকি দেন। তথ্য আদায়, ভয় দেখানো ও বেআইনিভাবে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনাটি ঘটে গত বছরের আগস্টে, রাজধানী বেলগ্রেডের একটি সরকারি স্থাপনার গ্যারেজে।

মন্ত্রণালয় অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেনি। তবে জানিয়েছে, তাঁরা পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও টেলিভিশন অব সার্বিয়া (আরটিএস) জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের কমান্ডার ইগর জমিরিচও রয়েছেন।

আন্দোলনের সূত্রপাত ও ক্ষমতার পালাবদল

সার্বিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের শুরু ২০২৪ সালের নভেম্বরে। ওই মাসে দেশটির নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচের দীর্ঘ শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতীক হয়ে ওঠে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এরপর শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে তা সরকারবিরোধী বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। গত অক্টোবরের নির্বাচনে ভুসিচের রাজনৈতিক শিবির পরাজিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন নতুন গতি পায়।

ক্ষমতার পালাবদলের পর আন্দোলনকারীরা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভুসিচের শাসনামলে দায়িত্ব পালন করা শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসব কর্মকর্তা ক্ষমতায় থাকার সময় ভুসিচের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজ করেছেন। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হলে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।

অ্যামনেস্টির আগের প্রতিবেদন

বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, সার্বিয়ায় বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো ভয়ভীতি, হয়রানি এবং বেআইনি নজরদারির শিকার হয়েছে। সংস্থাটির অভিমত, ব্যাপক জনঅসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ এসব পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই ১০ পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেফতারকে ওই অভিযোগের তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Source: জাগো নিউজ২৪