রাশিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র আর্মেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, ২০২৭ বা ২০২৮ সালের মধ্যে তারা এই আবেদন জমা দেবেন। এ ঘোষণায় মস্কোর প্রভাববলয় থেকে ইয়েরেভানের দূরত্ব আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে পাশিনিয়ান বলেন, আর্মেনিয়ার জনগণের সামনে বিকল্প সুযোগ তৈরি করতে তারা একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎ পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে স্পষ্ট যে, এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত ২০২৭ বা ২০২৮ সালে আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়ার পর্যায়ে নিয়ে যাবে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে আর্মেনিয়ার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। আজারবাইজানের বিরুদ্ধে সংঘাতে আর্মেনিয়াকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে মস্কোর ওপর ক্ষুব্ধ ইয়েরেভান। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে আর্মেনিয়া।

২০২০ ও ২০২৩ সালে আজারবাইজান নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল পুনর্দখল করে। দীর্ঘদিন ধরে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অঞ্চল থেকে এক লাখের বেশি জাতিগত আর্মেনীয় বাসিন্দা পালিয়ে আর্মেনিয়ায় আশ্রয় নেন। এরপর থেকে রাশিয়ার বলয় থেকে বেরিয়ে পশ্চিমামুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের দিকে আরও জোর দিয়েছে দেশটি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন (ইএইইউ) ছাড়ার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন পাশিনিয়ান। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত এই বাণিজ্যিক জোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ইএইইউ ছাড়ার পরিকল্পনা করছি না।’ তবে জোটের সদস্য দেশগুলো আর্মেনিয়ার ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনার কথা তুলেছে বলে তিনি জানান।

রাশিয়া বারবার বলে আসছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের সদস্য হওয়া একই সঙ্গে সম্ভব নয়। কারণ, দুই জোটের নিয়মকানুনের মধ্যে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (সিএসটিও) প্রতিও আর্মেনিয়ার আগ্রহ ফুরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পাশিনিয়ান। দেশটি ইতিমধ্যে জোটটিতে নিজেদের অংশগ্রহণ স্থগিত রেখেছে। তিনি বলেন, ‘সিএসটিওর প্রতি আমাদের আগ্রহ শেষ হয়ে গেছে। এই জোট নিয়ে আমাদের আর কোনো আগ্রহ নেই।’

২০২৫ সালের এপ্রিলে আর্মেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার উদ্যোগ শুরুর বিষয়ে একটি আইন গ্রহণ করে। তবে ওই আইন গ্রহণের অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদের আবেদন জমা দেওয়া নয়।

পাশিনিয়ানের পররাষ্ট্রনীতিতে পশ্চিমামুখী পরিবর্তন ও রাশিয়ার প্রভাববলয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার উদ্যোগে ক্ষুব্ধ ক্রেমলিন। চলতি বছরের শুরুর দিকে আর্মেনিয়ার কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করে মস্কো। পাশাপাশি দেশটিতে অগ্রাধিকারমূলক জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার হুমকিও দেয় রাশিয়া।

তথ্যসূত্র: এএফপি

Source: জাগো নিউজ২৪