রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলার সময় নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র আত্মরক্ষার জন্যই উঁচিয়ে ধরেছিলেন, এমন দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য এ ব্যাখ্যা দেন। আগের দিন শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালের ঘটনাটি ঘিরে কিছু গণমাধ্যম বিকৃত খবর ও অপতথ্য ছড়িয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

বিবৃতিতে ইশরাক বলেন, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য, ফটোকার্ড আর খণ্ডিত শিরোনাম দিয়ে পুরো প্রেক্ষাপট বোঝা যায় না। এর মাধ্যমে তাঁর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়া নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। ইশরাকের দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক চক্রগুলোর বড় ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে ওঠে। গত জুনে মাদককে ঘিরে এক সহিংসতায় ৩ জন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হলে তিনি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা সমন্বয় সভা করেন।

জনবল সংকট কাটাতে এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বসাতে তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছিলেন, যা এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে আছে বলে জানান। ইশরাক জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা এবং পুলিশ প্রশাসন মিলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতেই তিনি সেখানে যান।

হাতে অস্ত্র নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, যাওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে হঠাৎ গুলি চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছিল। তাঁর দাবি, একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইন ভঙ্গকারী হইচই করে মারমুখী ভঙ্গিতে গাড়িবহরের দিকে ছুটে আসে। তখন হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে খুব অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন এবং বিপদ কেটে যাওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়।

ইশরাকের দাবি, অস্ত্রটির লাইসেন্স যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থেই তা দেখানো হয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, পৌঁছেই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে জানানো হয় এবং পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এতে ৪-৫টি অবৈধ অস্থায়ী আস্তানা উচ্ছেদ করে মাদক বিক্রির নগদ টাকা, বিদেশি মদ, হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, সেবনের সরঞ্জাম, কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং হাতেনাতে ধরা পড়া ৬ জন মাদক কারবারিকে আলামতসহ থানায় সোপর্দ করা হয়।

বিবৃতিতে ইশরাক অভিযোগ করেন, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, দৈনিক কালবেলা ও দৈনিক ইত্তেফাকসহ হাতে গোনা কয়েকটি গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ড দিয়ে বিকৃত খবর ছড়িয়েছে এবং মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, ৬ জন অপরাধী আটক, পুলিশের ভূমিকা কিংবা অভিযানের সাফল্যের দিকটি পরিকল্পিতভাবে এড়িয়ে গেছে। গণমাধ্যমকে সত্যতা যাচাই করে পূর্ণ প্রেক্ষাপটসহ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার জানিয়ে ইশরাক বলেন, জনস্বার্থে এ অভিযান সামনেও চলবে।