মাদকের বিরুদ্ধে শুরু করা লড়াই চালিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদায়ী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, এ লড়াইয়ে পুরান ঢাকার মানুষ প্রতি মুহূর্তে তাকে সাহস ও সহযোগিতা দিয়েছেন; তাদের নিয়েই এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে যুদ্ধ চলবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভা থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর সময় তিনি এসব কথা বলেন। ইশরাক বলেন, তার কারণে প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের কোনো কাজ আড়ালে পড়ুক কিংবা দল বিব্রত হোক, তা তিনি চান না। তার অভিযোগ, তাদের বিব্রত করার চেষ্টা এমনিতেই চলছে, আর মাদকের প্রসঙ্গ চাপা দিয়ে খবরে অস্ত্র, ইশরাক ও অভিযানকেই মূল শব্দ বানানো হয়েছে।

এ লড়াইয়ে নিজের ব্যক্তিগত, দলীয় বা রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ নেই বলে দাবি করেন ইশরাক। তার ভাষ্য, মাদকের মূল হোতা বা গডফাদাররা আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং তারা হত্যাসহ নানা নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এ সমস্যা প্রকট হওয়ার সময় তা নিয়ে গবেষণার চেষ্টা করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না, তবে যত বেশি সীমিত করা যায়, মাদক তত বেশি নিয়ন্ত্রণে আসে।

দেশ ও পরবর্তী প্রজন্ম যেভাবে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন ইশরাক। তিনি জানান, মা-বাবারা তার কাছে এসে আহাজারি করেন, আর তরুণদের হাতে এত সহজে মাদক পৌঁছালে দেশের কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। তার দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তারা সতর্ক করে আসছেন যে এক-দুটি প্রজন্মকে স্থায়ীভাবে শেষ করে দিতে পরিকল্পিতভাবে দেশে মাদক ঢোকানো হচ্ছে; আশপাশের আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পর এখন ড্রোনে করে মাদক ফেলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘সেদিন আমি কোনো ভুল করিনি’, এমন দৃঢ় বিশ্বাসের কথা জানিয়ে ইশরাক ব্যাখ্যা দেন, নিজের নিরাপত্তার জন্য যতক্ষণ দরকার, ঠিক ততক্ষণই অস্ত্রটি তার হাতে ছিল; পরে সেটি আর দৃশ্যমান ছিল না। অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, একটি পিস্তল ও একটি রাইফেল, এই দুটি অস্ত্রেরই বৈধ লাইসেন্স তার আছে। তার দাবি, ওই এলাকায় আগে থেকেই গুলি চলায় পুলিশও যেতে ভয় পায়, আর তিনি সঠিক উপায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ডেকে সবাইকে আইনের হাতে সোপর্দ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক বলেন, ১৯৭১ সালে তার বাবা ছিলেন বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, আর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তার মতে, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হলেও তার যুদ্ধ এখনো চলছে, এবং সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, মাদকবিরোধী কিংবা সীমান্ত নিরাপত্তার, কোনো না কোনো রূপে আজীবন লড়তে হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র হয়ে উঠুক, তা অনেকেই চায় না, আর মাদকের কারণে একসময় বাংলাদেশ রাষ্ট্র টিকে থাকবে কি না, সে প্রশ্নও উঠতে পারে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, এমন প্রশ্নে ইশরাক বলেন, দলের প্রার্থী ঠিক করার পুরো এখতিয়ার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি লড়বেন, অন্য কাউকে দিলে তাকে জেতাতে শতভাগ কাজ করবেন।