রাজধানী ঢাকায় গরমের অনুভূতি এখনো কাটেনি। তবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ধীরে ধীরে শীত নামতে শুরু করেছে—কোথাও রাত বাড়ার সঙ্গে কমছে তাপমাত্রার অনুভূতি, আবার কোথাও সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা ঠান্ডা বোঝা যাচ্ছে। ঢাকায় শীতের আমেজ শুরু না হলেও আগাম শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর অন্যতম পাইকারি বাজার বঙ্গবাজারে। সামনে শীত মৌসুম ধরেই ঢাকার বাইরের জেলাগুলো থেকে খুচরা পোশাক বিক্রেতারা সেখানে আসছেন।
শীতের পোশাক কিনছেন তাঁরা; নিচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসার প্রস্তুতিও। বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শীতের পোশাকের চাহিদা সাধারণত আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় শীতের অনুভূতি শুরু হওয়ায় এসব অঞ্চলের খুচরা বিক্রেতারা আগেভাগে পোশাক সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর ফলে পাইকারি বাজারে শীতের পোশাক কেনাবেচার ব্যস্ততাও বাড়ছে। শীতের তীব্রতা বাড়লে ক্রেতা ও বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বঙ্গবাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা শীতের পোশাকের সম্ভার সাজিয়ে রেখেছেন। শিশুদের শীতের পোশাকের পাশাপাশি বড়দের সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি ও ট্রাউজারসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে। ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে গিয়ে পোশাকের মান, নকশা ও দাম যাচাই করছেন। নিজ নিজ এলাকার বাজারে বিক্রি করা যাবে—এমন পোশাক বেছে নিচ্ছেন তাঁরা।
পাইকারি বাজার থেকে পোশাক কিনে পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ যোগ করে খুচরা বিক্রেতাদের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হয়—বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা এমনটাই জানান। তাই কম দামে মানসম্মত পোশাক জোগাড় করা তাঁদের বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সীমিত পুঁজিতে ব্যবসা করা বিক্রেতাদের আগাম পণ্য কেনার সময় বাড়তি সতর্কতা নিতে হয়।
বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীরা আরও জানান, সাধারণত উত্তরাঞ্চলসহ যেসব এলাকায় আগে শীত অনুভূত হয়, সেখানে মৌসুমের শুরুতেই পোশাক কেনায় আগ্রহ দেখান বিক্রেতারা। এরপর ধীরে ধীরে অন্য এলাকার ক্রেতারাও বাজারে আসেন। তবে শীতের পোশাকের বিক্রির গতি নির্ভর করছে আবহাওয়া, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ও পোশাকের দামের ওপর। শীত দেরিতে শুরু হলে বা তীব্রতা কম হলে প্রত্যাশিত হারে বিক্রি না-ও হতে পারে। এ কারণেই মৌসুমের শুরুতে পণ্য কেনার সময় চাহিদা ও বিক্রির সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখছেন তাঁরা।
ঢাকায় এখনো শীতের তেমন প্রভাব না থাকলেও দেশের অন্য অঞ্চলের আবহাওয়ার পরিবর্তন বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ীদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আসন্ন শীত মৌসুমে বিক্রি বাড়বে—এমন প্রত্যাশা নিয়েই নতুন মৌসুমের ব্যবসা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য
বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল জাগো নিউজকে বলেন, শীতের পোশাকের ব্যবসায় আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব অনেক। মৌসুমের শুরুতে যাঁরা পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন, চাহিদা বাড়ার সময় তাঁরা বিক্রির সুযোগ পেয়ে থাকেন। এ কারণেই ঢাকার বাইরের অনেক ব্যবসায়ী শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই পাইকারি বাজারে আসছেন।
আরেক ব্যবসায়ী সোহেল রানা জানান, শীতের পোশাকের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও বাড়ে। কোন ধরনের পোশাকের চাহিদা বেশি থাকবে, তা নির্ভর করে আবহাওয়া ও ক্রেতাদের পছন্দের ওপর। তাই বিভিন্ন নকশা ও দামের পোশাক রেখেই বিক্রি করতে হয়। তিনি জানান, ঢাকায় এখনো গরম থাকলেও উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি শুরু হয়েছে। এখন উত্তরাঞ্চলের অনেক খুচরা বিক্রেতা শীতের পোশাক কিনতে আসছেন। যেসব অঞ্চলে শীত পড়েনি, সেখান থেকেও ক্রেতারা আসছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগাম বিক্রি মোটামুটি ভালো হচ্ছে এবং ঢাকায় শীত পড়তে শুরু করলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
ব্যবসায়ী জাহিদুর জানান, শীতের পোশাকের বাজারে বিক্রির গতি নির্ভর করে আবহাওয়া, পোশাকের দাম ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর। শীতের তীব্রতা বাড়লে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরও বেশি পাইকারি ক্রেতা আসবেন।
কেন আগেভাগে কেনা
ঢাকার বাইরের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে শীতের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমের গোড়াতেই চাহিদা অনুযায়ী পোশাক সংগ্রহ করতে পারলে বিক্রির ভালো সুযোগ থাকে। উল্টোদিকে বেশি দামে বা ভুল অনুমানে পণ্য কিনলে লোকসানের ঝুঁকিও থাকে। তাই অনেকে বাজার যাচাই করে পোশাক কিনছেন। কেউ কেউ আবার প্রথম দফায় অল্প পরিমাণ পণ্য সংগ্রহ করে চাহিদা বুঝে পরে আরও পোশাক কেনার পরিকল্পনা করছেন।
রংপুর থেকে আসা খুচরা বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, তাঁদের এলাকায় ভোর ও রাতে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তাই শীতের পোশাকের চাহিদা বাড়ার আগেই বঙ্গবাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে এসেছেন তিনি। তাঁর মতে, আগে থেকে পোশাক কিনে রাখলে মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি করা যাবে।
যশোর থেকে আসা মো. রুবেল জানান, শীতের পোশাক বিক্রির জন্য এমন সময়ে পণ্য কিনতে হয়, যখন বাজারে ক্রেতার চাপ পুরোপুরি তৈরি হয়নি। এতে পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বাছাই করার সুযোগ মেলে। তিনি জানান, এবার শীতের পোশাকের দাম একটু বেশি। পাইকারি দাম, পোশাকের মান ও পরিবহন খরচ হিসাব করেই পণ্য কিনতে হচ্ছে। কারণ, সব খরচ যোগ করে এমন দামে বিক্রি করতে হবে, যাতে ক্রেতারাও কিনতে পারেন এবং বিক্রেতারও লাভ থাকে।
Source: জাগো নিউজ২৪






