অনেক করদাতার মনেই প্রশ্ন জাগে—নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে কত টাকা জরিমানা গুনতে হবে? আগের বছরের রিটার্ন জমা না দিলে কত অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে? আর জমা দেওয়া রিটার্ন ও প্রাপ্তিস্বীকারপত্র কোথায় পাওয়া যাবে? জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে সম্ভাব্য প্রদেয় অর্থ, আগের বছরের রিটার্ন এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেখা ও সংগ্রহ করা সম্ভব।

এক প্রতিবেদনে ধাপে ধাপে বিষয়গুলো তুলে ধরেছে জাগো নিউজের অর্থনীতি বিভাগ।

নিবন্ধন নেই যাদের

যাদের আগে ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি, তাঁদের প্রথমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

জরিমানা বা প্রদেয় অর্থ দেখবেন যেভাবে

দেরিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর বা জরিমানার পরিমাণ নির্ভর করে করদাতার নিজের পরিস্থিতি এবং আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানের ওপর। তাই সবার ক্ষেত্রে একই অঙ্ক প্রযোজ্য হবে—এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নিজের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত অর্থ দেখে সম্ভাব্য প্রদেয় পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়। এ জন্য নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

এই ঘরে প্রদর্শিত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় মোট যত টাকা পরিশোধযোগ্য, তা বোঝায়। তবে এই অঙ্ককে সব ক্ষেত্রে কেবল জরিমানা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এর মধ্যে প্রযোজ্য কর বা অন্যান্য অর্থও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সুনির্দিষ্ট হিসাব বুঝতে নিজের রিটার্নের তথ্য ও প্রযোজ্য বিধান যাচাই করে নিতে হবে।

আগের বছরের রিটার্ন দেখবেন যেভাবে

আগের করবর্ষে জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নের তথ্য দেখতে ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টে লগইন করে নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হবে। জমা দেওয়া রিটার্ন দেখতে যেতে হবে ‘Tax Record → Return’ অপশনে। আর আগের বছরের রিটার্ন খুঁজতে বেছে নিতে হবে ‘Tax Record → History’ অপশন। এরপর ‘Record Type’ ও ‘Year’ নির্বাচন করে ‘View’-তে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট বছরের সংরক্ষিত রিটার্নের রেকর্ড দেখা যাবে।

প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ডাউনলোড

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট সংগ্রহ করতে চাইলে তা ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট থেকেই ডাউনলোড করা যায়। ভবিষ্যতে রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে এই প্রাপ্তিস্বীকারপত্র কাজে লাগতে পারে। তাই এটি সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

কেবল জরিমানা বা প্রদেয় অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলে পুরো প্রক্রিয়ায় সতর্ক থাকতে হবে। একেবারে শেষ ধাপে ‘Submit Return’ বাটনে ক্লিক করা যাবে না। রিটার্ন জমা দেওয়ার পর সাধারণভাবে তা প্রত্যাহার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—‘Total Amount Payable (u/s 174)’ ঘরে প্রদর্শিত অর্থই সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত জরিমানা নয়। করদাতার আয়, কর পরিশোধের অবস্থা, বিলম্বের সময় এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী এই হিসাব ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো অর্থ পরিশোধ বা রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে প্রদর্শিত হিসাব ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে।

Source: জাগো নিউজ২৪