সঞ্চয়ের টাকা কোথায় বিনিয়োগ করবেন, ভালো মুনাফা কোথায় মিলবে—এ নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। ব্যাংকের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও সঞ্চয়পত্রের বাইরে বিনিয়োগের আরেকটি মাধ্যম হিসেবে বন্ড ক্রমেই মানুষের আগ্রহ পাচ্ছে। নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকায় এই মাধ্যমটি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তবে বিনিয়োগের আগে বন্ড কোথায় পাওয়া যাবে, মুনাফার হার কেমন, কর কতটা দিতে হবে, ঝুঁকি কী, আর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা তোলার সুযোগ আছে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
বন্ড মূলত এক ধরনের ঋণপত্র। সরকার, ব্যাংক কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অর্থ সংগ্রহের জন্য বন্ড ইস্যু করে। বিনিয়োগকারীরা বন্ড কিনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী মুনাফা পান। শেয়ারের মতো বন্ডে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পাওয়া যায় না।
দেশে কোন কোন বন্ড প্রচলিত
দেশে প্রচলিত বন্ডের মধ্যে রয়েছে সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও করপোরেট বন্ড। করপোরেট বন্ডের মধ্যে প্রচলিত বন্ডের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সুকুকও রয়েছে। মুনাফা দেওয়ার ধরন অনুযায়ী জিরো-কুপন ও পারপিচুয়াল বন্ডের মতো বিভিন্ন ধরনও আছে। সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংক বন্ড ইস্যু করেছে। জিরো-কুপন বন্ডে নির্দিষ্ট বিরতিতে সুদ দেওয়া হয় না; অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে কিনে মেয়াদ শেষে পুরো মূল্য পাওয়ার মাধ্যমেই মুনাফা আসে।
মেয়াদ ও মুনাফার শর্ত আগেই নির্ধারিত
বন্ডে বিনিয়োগের বড় সুবিধা হলো, অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মেয়াদ ও মুনাফার শর্ত আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। ফলে সম্ভাব্য আয় আগেভাগে হিসাব করা সহজ হয়। তবে সব বন্ডের মুনাফা বা ঝুঁকি এক নয়। সরকারি বন্ড, ব্যাংকের বন্ড ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বন্ডের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে তুলনা করার সময় শুধু ঘোষিত মুনাফার হার দেখলে হবে না; কর ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত আয় কত থাকবে, সেটিও হিসাব করতে হবে। পাশাপাশি বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতাও যাচাই করা জরুরি।
কর-সুবিধায় প্রকৃত আয় বাড়তে পারে
বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে করের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ব্র্যাক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের গ্রিন বন্ডের মুনাফার ওপর অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কর রেয়াতের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বিনিয়োগের আগে কর-সুবিধার শর্ত ও প্রযোজ্য বিধিবিধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
ঝুঁকি বুঝে বিনিয়োগ
বন্ডে নির্ধারিত মুনাফার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা খারাপ হলে মুনাফা ও আসল ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে জামানতহীন করপোরেট বন্ডের ক্ষেত্রে ইস্যুকারীর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া বাজারে সুদের হার বাড়লে আগে ইস্যু করা বন্ডের বাজারমূল্য কমতে পারে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বন্ড বিক্রি করতে হলে প্রত্যাশিত মুনাফার চেয়ে কম অর্থ পাওয়ার কিংবা লোকসানের আশঙ্কা থাকে।
বন্ড কোথায় পাওয়া যাবে
সরকারি ট্রেজারি বন্ড কেনা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োজিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে হিসাব খুলে বিনিয়োগের নিয়ম জেনে নিতে হবে। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ড কিনতে প্রয়োজন হয় বিও হিসাব।
সব মিলিয়ে বন্ডে বিনিয়োগের আগে মুনাফার হার, মেয়াদ, কর-সুবিধা, ইস্যুকারীর আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনে বন্ড বিক্রির সুযোগ যাচাই করা উচিত। শুধু বেশি মুনাফার আশায় বিনিয়োগ না করে নিজের আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
Source: জাগো নিউজ২৪






