স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি সুশাসনের ঘাটতি এবং দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এত বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ যাতে কোনোভাবেই দুর্নীতি বা অপচয়ের মধ্যে পড়ে না যায়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে নগরের শিশুস্বাস্থ্য: সংকট ও সমস্যা সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন এই সংলাপের আয়োজন করে।

স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ঠেকাতে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধে যেমন চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, দুর্নীতির ক্ষেত্রেও তেমনি আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধই বেশি জরুরি।

ড. এম এ মুহিত উল্লেখ করেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির একাধিক প্রমাণ ও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়িয়েছে; তবে সেই বাজেট যেন আগের মতোই দুর্নীতির ‘ব্ল্যাকহোলে’ হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সরকার বিশেষভাবে নজর রাখছে বলে তিনি জানান।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির তথ্য পেলে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে স্বাস্থ্য খাতের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সব সময় সজাগ ও ভিজিল্যান্ট থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

নাগরিক সংলাপটি সঞ্চালনা করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। এতে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওশনুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী।

তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ।

Source: জাগো নিউজ২৪