মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর আবার হামলা চালানো হবে নাকি শান্তিচুক্তির পথে এগোনো হবে, সে বিষয়ে তাঁকে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। সংঘাতের সমাধান না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাষণের বড় অংশজুড়ে ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দেন। তাঁর দাবি, এই সংঘাত তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে; একে তিনি ‘শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি’ বলে বর্ণনা করেন। তবে নভেম্বরের নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হুমকির দিনেই দুই দেশের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেছেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের তিন ঘণ্টার বৈঠক ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সাক্ষাতের কথা নিশ্চিত করেছে। উইটকফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, আলোচনা হয়েছে মূলত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এবং তা গঠনমূলক হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

ভাষণে ট্রাম্প ‘বৈশ্বিক সরকার’-এর ধারণা প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘের সমালোচনা করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখার অঙ্গীকারও করেন তিনি। কিউবাকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলার পর দেশটির প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যায়।

একই দিনে ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা