বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রশংসা করে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরার দেওয়া একটি ভিডিওবার্তা ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনে ‘বাংলাদেশই পথ দেখিয়েছে’—তার এই মন্তব্যকে ক্ষমতাসীন বিজেপি ‘সরকার বদলের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছে।
গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তাটি দেন নেহা। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে সম্প্রতি ভিডিওটি প্রকাশের পর তা ভারতীয় গণমাধ্যমের নজরে আসে। বার্তায় তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের দাবিতে বাংলাদেশের তরুণেরা যে লড়াই করেছেন, ভারতের ‘জেন-জি’ আন্দোলন তারই ধারাবাহিকতা।
এর পরদিন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, নেহা বোরা ও ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দীপকের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভূষণ ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের পক্ষে খোলাখুলি কথা বলেন। দুটি বক্তব্য একসঙ্গে জুড়ে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, এগুলো রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ভাবনারই প্রতিফলন এবং বাংলাদেশের মতো অরাজকতা তৈরি করে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
বিজেপির আইটি সেলের নতুন প্রধান দীপক মাহস্কেও একই সুরে বলেন, এসব মন্তব্য রাজপথে বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার ইঙ্গিত। ভান্ডারির দাবি, রাহুল গান্ধী নেহাকে তার আন্দোলনের ‘পোস্টার গার্ল’ বানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলের নেতৃত্বে চলা কর্মসূচিতে নেহা ও ভূষণ দুজনই অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়; তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। সেই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তুলনা টেনেই বিজেপি এখন বিরোধীদের ঘায়েল করতে চাইছে। অভিযোগের বিষয়ে নেহা বোরা বা রাহুল গান্ধীর কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।






