জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের চড়া দাম এবং সরকারের নীতির প্রতিবাদে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দুপুর পর্যন্ত ১৪০টি কর্মসূচিতে প্রায় ৩২ হাজার ৮০০ মানুষ অংশ নেন; আটক হন আড়াই শতাধিক।

প্যারিসে প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও আশপাশে বিপুল দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়; মুখোশ পরা কয়েকটি দলকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। আল জাজিরার সংবাদদাতা নাতাশা বাটলারের বর্ণনায়, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শুরুর আগেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ফেলে, সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

দক্ষিণের মার্সেইয়ে বিক্ষোভকারীরা সিটি হলের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং বাণিজ্যিক এলাকায় কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালান বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়; লিওঁয়ে পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবরও এসেছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক সংগঠন, স্বাস্থ্যকর্মী ও কৃষকেরা কর্মসূচিতে যোগ দেন; ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকেরাও আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষকের ঘাটতি ও স্কুলের প্রতিকূল পরিবেশের প্রতিবাদে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ছিল; আগের বিক্ষোভে ১৫ বছরের এক কিশোরীর হাত হারানোসহ পুলিশের হাতে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই ক্ষোভই এখন বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে বলে মনে করেন প্যারিসভিত্তিক সেন্টার ফর পলিটিক্যাল রিসার্চের গবেষক ব্রুনো কাত্রে—উচ্চ কর, জাতীয় ঋণ আর বাজেট ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে সরকার দাবি পূরণে হিমশিম খাচ্ছে।

বাজেট নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা চলছে, আর আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন—এই প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভের আগের দিন ব্রাসেলস থেকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মতপ্রকাশের অধিকার সাংবিধানিক, তবে মানুষ ও সম্পদের প্রতি সম্মানও দায়িত্ব। ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য পরামর্শ: বিক্ষোভের দিনগুলোতে প্যারিস ও বড় শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঘোষণা অনুসরণ করা।