আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে, অথচ বর্তমান ধারায় কাজ তৈরি হবে মাত্র ৪০ কোটি। প্রায় ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের এই ঘাটতিকে বৈশ্বিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান নিছক পরিসংখ্যান নয়, মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। সমাধানে তিনি তিনটি বিষয়ে জোর দেন—ভৌত ও মানব অবকাঠামো, বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল নীতি এবং বেসরকারি পুঁজির ব্যাপক সম্প্রসারণ।

বাঙ্গা জানান, ২০২২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি মূলধন টানতে পেরেছিল; গত অর্থবছরে তা পৌঁছেছে ১১২ বিলিয়নে, আর নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট বিনিয়োগ ২৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর বড় অংশ গেছে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, কৃষিব্যবসা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও উৎপাদনশিল্পের মতো কর্মসংস্থান তৈরির খাতে। প্রকল্প প্রস্তুতির গড় সময় ১৯ মাস থেকে ৯ মাসে নামানো হয়েছে এবং আইবিআরডি আগামী এক দশকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে তার কণ্ঠে। বড় ও ব্যয়বহুল মডেলের বদলে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন ‘স্মল এআই’-তে—সহজ, সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, যা কৃষকের ফলন, শিক্ষকের পাঠদান আর স্বাস্থ্যকর্মীর সিদ্ধান্তে সরাসরি কাজে লাগে। সে জন্য বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সংস্থাটি।

২০৩০ সালের লক্ষ্যগুলোরও হালনাগাদ দেন তিনি: আফ্রিকায় ৩০ কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ দেওয়ার ‘মিশন ৩০০’-এ ইতিমধ্যে ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ সংযোগ পেয়েছেন; নিরাপদ পানিতে ৪০ কোটি, ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট’-এ ২০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক এবং ‘হেলথওয়ার্কস’-এ ১৫০ কোটি মানুষের কাছে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। পেনশন ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের মতো বড় বিনিয়োগকারীদের টানতে উদীয়মান বাজারের উন্নয়ন প্রকল্পকে আলাদা ‘সম্পদশ্রেণি’ হিসেবে দাঁড় করানোর কাজও চলছে পাঁচটি বহুপাক্ষিক ব্যাংকের সঙ্গে।

বাংলাদেশের মতো তরুণপ্রধান দেশের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট: শুধু ঋণে কর্মসংস্থান সংকট মিটবে না; দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী যাতে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজি খাটাতে ভরসা পান, তেমন নীতিগত পরিবেশই আসল চাবিকাঠি। ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস সম্মেলনের কথা স্মরণ করিয়ে বাঙ্গা বলেন, বৈশ্বিক সমৃদ্ধি কোনো একক দেশের অর্জন নয়—এর সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে হবে।