দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ, অবৈধ কারখানার অমানবিক কাজের পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম-প্রতারক চক্র নিয়ে ইতালির রাজধানী রোমে একটি আলোচনা সভা হয়েছে। গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় ভিয়া প্রেনেস্তিনা ৭১-এর টোরিওন পার্কে সভায় বিচার বিভাগ, শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী শ্রমিকেরা ছিলেন।
সিজিইলএলের প্রতিনিধি আলেসান্দ্রা ভ্যালেন্টিনি, ম্যাজিস্ট্রেট ফিলিপ্পো পোলট্রোনিয়েরি, ম্যাজিস্ট্রেট ব্রুনো জিওর্দানো এবং এফএলএআই সিজিইলএলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা অভিবাসী শ্রমিক শোষণের বাস্তবতা, অবৈধ শ্রমবাজারের বিস্তার ও দালালদের তৎপরতার কথা তুলে ধরেন। বক্তাদের মতে, শ্রমিক শোষণ কেবল শ্রম আইনের লঙ্ঘন নয়, মানবাধিকারেরও গুরুতর লঙ্ঘন।
শেষ পর্বে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা জানান। বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নত জীবন আর ভালো চাকরির আশায় ইতালিতে পা রেখে অনেকে প্রতারিত হয়েছেন; কেউ দালালের খপ্পরে অবৈধ কারখানায় কাজে বাধ্য হয়েছেন, কেউ ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কাজ করেও অনেকে প্রাপ্য পারিশ্রমিক পান না; কাগজের জটিলতা ও চাকরি হারানোর ভয়ে নির্যাতনের কথাও বলতে পারেন না। অবৈধভাবে শ্রমিক নিয়োগকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নজরদারি বাড়ানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
বক্তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতার ওপর জোর দেন। উপস্থিত বাংলাদেশিরা আশা করেন, ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা কর্তৃপক্ষের নজর কাড়বে এবং শোষণ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ আসবে।






