যুদ্ধের কারণে মাসের পর মাস কার্যত বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কয়েকটি শর্ত রেখেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে এসব শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের শর্তগুলো হলো: অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ দ্রুত ছেড়ে দেওয়া এবং ইরান যেগুলোকে ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ বলে, তার সবগুলোতে যুদ্ধের অবসান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলো এবং সেখানে আসা-যাওয়া করা জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটন বলে আসছে, ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের অবাধ চলাচল তারা রক্ষা করবে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বে উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে সরবরাহ হতো। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অনেক বেড়েছে, যার চাপ পড়ছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে। উপসাগরীয় দেশগুলোর বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও এই পথের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো




