মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধে আগে থেকেই চাপে থাকা ইরানের বাণিজ্য নতুন ধাক্কা খেয়েছে প্রতিবেশী ইরাক ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ করায়। এতে স্থলপথে পণ্য পরিবহনে দেরি বাড়ছে, আমদানি-রপ্তানিতেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

চোরাচালান রোধ ও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলে ইরাক বুধবার (২১ অক্টোবর) আল-শিব ক্রসিং দিয়ে ইরানের সঙ্গে চলাচল বন্ধ করে দেয়। আর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সপ্তাহান্তে গাবদ ও তাফতান সীমান্তপথে ইরান থেকে আসা ট্রাক আটকে দেয় পাকিস্তান।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে শাফাক নিউজ জানিয়েছে, সমুদ্রপথ সংকুচিত হওয়ায় ইরান এখন স্থলপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল; সীমান্তে বাধা বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, নিত্যপণ্য আমদানিতে দেরি ও রপ্তানিতে বিঘ্নের আশঙ্কা আছে।

ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করতে চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটনও। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, পাকিস্তান ও তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে ইরানের স্থলবাণিজ্যে লাগাম টানার চেষ্টা চলছে, যা ইরানকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন’ করার উদ্যোগের অংশ।

ইরানের পরিবহন কর্মকর্তাদের হিসাবে ২৯ সেপ্টেম্বর তুরস্ক, আফগানিস্তান ও আজারবাইজান সীমান্তে প্রায় ১৭ হাজার ট্রাক আটকা ছিল, কোথাও অপেক্ষা গড়ায় ২০ দিনে; কিছু চালককে পচে যাওয়া ফলসহ কৃষিপণ্য ফেলে দিতে হয়। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ৪ হাজার ৫০০ টনের বেশি চালান পাকিস্তান সীমান্তের ইরানি পাশে আটকা রয়েছে।