যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান জে ক্লেটন শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা অঞ্চলে মার্কিন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের নিশানা করার তৎপরতা অনেকটাই বাড়িয়েছে ইরান। অ্যাক্সিওসের খবর অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিনিদের হত্যার পরিকল্পনা অনেক দূর এগিয়েছে বলেও দাবি তার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে লেখা স্মারকলিপিতে ক্লেটন জানান, মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের চেষ্টা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে মার্কিনিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ইরানি পরিকল্পনা উন্নত ধাপে পৌঁছেছে। রুবিও যেন পররাষ্ট্র দপ্তরের আরও কর্মকর্তাকে এসব জানাতে পারেন, সে জন্য তথ্যগুলোর গোপনীয়তা যথাসম্ভব কমানোর প্রস্তাবও দেন তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ বাধার পর থেকে মার্কিনিদের ঝুঁকি এখন সর্বোচ্চ বলে মনে করছে দেশটির সংস্থাগুলো; প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার শীর্ষ সহযোগীদের তা নিয়মিত জানানো হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে রাষ্ট্রদূতসহ কর্মকর্তাদের ওপর সম্ভাব্য হুমকির তথ্য বিশ্লেষকেরা যাচাই করছেন বলে এক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও ইরানের সক্রিয় লোকজন থাকতে পারে, ইউরোপের কিছু স্থাপনাও নিশানায় থাকতে পারে। তবে আরেক কর্মকর্তার মতে, বিদেশে হামলার সক্ষমতা তেহরানের সীমিত, উচ্চাকাঙ্ক্ষাই বরং সামর্থ্যের চেয়ে বেশি। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের এক হামলা-পরিকল্পনার খবর পেয়ে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও জানানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকটি মার্কিন দূতাবাসে জনবল কমানোর ঘোষণার পরপরই স্মারকলিপির তথ্য প্রকাশ্যে আসে; জর্ডান, লেবানন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে দূতাবাসের কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী এবং ইরানের হুমকির সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত জড়িত।

এর আগে হুতিদের হামলা বেড়ে যাওয়ায় সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের স্বজনদের দেশ ছাড়তে বলেছিল ওয়াশিংটন। এ মাসে প্রায় প্রতিদিনই সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি; প্রতিবেদনে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলা হয়েছে।