শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। দুই অভিনেত্রীর মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্য সংগঠনটি একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তাঁদের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সদস্যপদ স্থগিতের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তানজিন তিশা। এ সময় শুটিং সেটের ঘটনা, অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠক এবং গত কয়েক মাসের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর দুই অভিনেত্রীর কাছে চিঠি পাঠায় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। এর আগে ৭ জুলাই সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে দুজনের কেউই ওই নোটিশের জবাব দেননি। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি তাঁদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়েও লাইভে কথা বলেন তিশা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুজনকেই ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিতে এবং ভিডিও বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছিল। তবে সামিয়া অথৈ ভিডিও বার্তা পাঠাননি। তিশাও কোনো কারণে সেটি পাঠাতে পারেননি বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে তানজিন তিশা বলেন, ‘বলা হয়েছিল, আমরা দুজনই যেন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিই এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাই। সে (সামিয়া অথৈ) ভিডিওটি দেয়নি। আমিও কোনো কারণে দিতে পারিনি। আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে।’

লাইভে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের বিষয়েও নিজের মত দেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, পেশাগত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা না করে প্রকাশ্যে এনে কাউকে হেয় করা কিংবা কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় গত এক বছরে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গও তোলেন তিশা। বিশেষ করে আলোচিত ‘শাড়ি-কাণ্ড’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি-কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি। আট মাস ধরে যত বাধাই আসুক, যা-ই ঘটুক, আমি থেমে নেই। আমি থেমে থাকব না। আমি হাল ছাড়ব না। এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাটা বলতে পারছি, কারণ আমি জানি, আমি ভুল কিছু করিনি।’

Source: জাগো নিউজ২৪